সম্প্রতি অভিনয় শিল্পী সংঘের একটি অনুষ্ঠানে গুণী অভিনেতা মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছি। আর সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একজন মানুষের উত্থান হয়েছে।
গুণী এই নাট্য পরিচালক বলেন, এই উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির উত্থান। এই উত্থান কীভাবে রোধ করা যাবে, এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, আবার তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যাও।
রোববার (২৬ মার্চ) অভিনেতা মামুনুর রশীদ দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানান, হিরো আলম সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তার।
নাট্যাঙ্গনের কিছু মানুষ তার (হিরো আলম) কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। তার পর থেকেই হিরো আলমকে নিয়ে বিরক্ত ছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কয়েকজন বলার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সে যখন সংসদ নির্বাচন করছে, তাকে কেউ একটা গাড়ি দিচ্ছে। সেই গাড়ির আবার ৯-১০ বছর ধরে কোনো ফিটনেস নেই।
তাকে নিয়ে অনেক দিনই আমি বিরক্ত ছিলাম। এ নিয়েও বিরক্ত ছিলাম, দেশের মানুষের তো রুচির দুর্ভিক্ষ হয়ে গেছে।
১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতির পাইকড়া গ্রামে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃৎ। তার নাট্যকর্মে প্রখর সমাজ সচেতনতা লক্ষণীয়। শ্রেণীসংগ্রাম তার নাটকের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু।
তিনি টিভির জন্যেও অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যূ নিয়ে, শ্রেণীসংগ্রাম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলন নিয়ে নাটক রচনা ও পরিবেশনা করে বাংলাদেশের নাট্য জগতে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নাট্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি একুশে পদকে ভুষিত হন। ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেও স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ স্বরূপ পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
এন





