১৯৮৫ সাল থেকে বহু সুপারহিট সিনেমায় সহ-অভিনেত্রী হিসেবে পর্দা মাতিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন পাবলা। কিন্তু চিকিৎসার খরচ মেটানোর মতো সামর্থ্য না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়। শুধু তা-ই নয়, হাসপাতাল থেকে তাঁকে একটি ট্যাক্সিতে তুলে দেওয়া হয়। সেই ট্যাক্সিচালকও মাঝরাতে অসুস্থ অভিনেত্রীকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান।
রাতে পথচারীরা অভিনেত্রীকে রাস্তার ধারে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে ‘আরকে ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যায়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তেলুগু চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকের নজরে আসে। প্রবীণ অভিনেত্রীর চরম দুর্দশার দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তেলুগু চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান দিল রাজু। শ্যামলের অসহায়ত্বের খবর পেয়ে তাঁর সমস্ত চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নতুন করে বাঁচার আলো পেয়ে পাবলা শ্যামল ও তাঁর মেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রযোজক দিল রাজুর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।
‘আরকে ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই-তিন বছর ধরে ফাউন্ডেশনটি বিনামূল্যে এই অভিনেত্রীর চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করছিল। তবে সেখানে কোনো হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় তাঁকে বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে বলা হয়েছিল।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে
এর আগে ২০২১ সালে গুরুতর অসুস্থতা আর তীব্র অর্থকষ্টের কথা প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন পরিচালক জুটি রাজ ও ডিকে। প্রবীণ শিল্পীর চিকিৎসার জন্য তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান এবং তহবিল সংগ্রহ করেন। তখনই জানা যায়, পাবলা শ্যামলের একমাত্র মেয়ে মরণব্যাধি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। মেয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে একপর্যায়ে নিজের সমস্ত সম্মাননা ও ট্রফি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
সেই সময় অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তেলুগু ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার চিরঞ্জীবী, পবন কল্যাণ এবং অল্লু অর্জুনের মতো তারকারা।
এমএম