৯ নভেম্বর বিকালে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘পিঁপড়াবিদ্যা এবং নতুন সিনেমার সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় আলোচনা সভা। নতুন সিনেমা কি, এবং কেন, পিঁপড়াবিদ্যা ছবিটির মাঝে কতটুকু নতুন দিনের ছবির সম্ভাবনা আছে মূলত এসব বিষয় নিয়েই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকরা আলোচনা করেন।
আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফরহাদ মাজহার, নূরুল আলম আতিক, গোলাম রাব্বানী বিপ্লব, মোহাম্মদ আজম, সুমন রহমান, পিপলু আর খান ও রেদওয়ান রনি। তারা প্রত্যেকে ছবিটির সংকট আর সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে কথা বলেন। নতুন দিনের বাংলা ছবির ভাষা কি হবে?, এবং সেটা কিভাবে তৈরি হবে? সে বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন নির্মাতা নূরুল আলম আতিক। ফরহাদ মাজহার জানান, এ ধরণের অনুষ্ঠান তারা নিয়মিতই আয়োজন করতে চান, এবং তিনি বাংলা ছবির নতুন ভাষা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা শেষে প্রশ্ন উত্তর পর্বে আগত দর্শকের পিঁপড়াবিদ্যা ছবিটি নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ছবির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রতিপক্ষ’। অনুষ্ঠানটি নিয়ে ফরহাদ মজহার তার ফেসবুকে লেখেন, ‘নতুন সিনেমাকে নিছকই সম্ভাবনা ভেবে আবার বসে থাকবেন না। ‘পিপড়াবিদ্যা’ দেখুন। বাংলাদেশের ছবির পক্ষে দাঁড়ান। এবং সাহিত্যের পক্ষেও, যেভাবে আমরা ভাবছি…। আমরা কৃতজ্ঞ সিনেমার ভাষাও সাহিত্য চর্চার একটা ধরণ, এটা রিদয়পুরে যাবার আগে নূরুল আলম আতিককে বোঝাতে আমাদের একদমই বেগ পেতে হয় নি। রিদয়পুরে কেউই প্রশ্ন তোলে নি, সাহিত্যের আড্ডায় আবার সিনেমার লোক কেন? তাঁদের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু সিনেমার নিজের একটা ভাষা আছে, সেটা মুদ্রণ যন্ত্রের ভাষা কিম্বা গুটেন বার্গ টেকনলজি নয়। পার্থক্য এখান থেকে শুরু হয়। কিভাবে সে ভাষা নিয়ে আমরা কথা বলব বা আলোচনা করব সেই দিক তাহলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নূরুল আলম আতিক তাই রিদয়পুরে সিনেমার ভাষা নিয়ে কথা বলেছেন। ‘সাহিত্য’ কথাটাকে একটি বিশেষ ভাষা, মাধ্যম বা প্রযুক্তি থেকে বিযুক্ত করে বিভিন্ন মাধ্যমে যাঁরা কাজ করছেন সকলকে নিয়েই সাহিত্যচর্চা কেন জরুরী তার একটা ছোটখাট রিহার্সাল হয়ে গিয়েছিল রিদয়পুরে। সাহিত্যের ধারণাটিকে পরিচ্ছন্ন করা ছাড়াও আরও নানান দিক থেকে বাড়তি লাভ তো ছিলই।
এটা পরিষ্কার যে সাহিত্য বলতে সকলে যা বোঝে সেই গড়পড়তা গড়ে হরিবোল জায়গা থেকে আমরা সাহিত্য বুঝতে চাইনি। এটা না বোঝার কিছু নগদ লাভ আছে। অন্যান্য ভাষা, চিহ্নব্যবস্থা বা মাধ্যমে যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈয়ারির তীব্র আকুতি জন্মেছে আমাদের মধ্যে। আমাদের অনুমান এই সম্পর্ক বাড়াতে পারলে সব মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার প্রণোদনা বাড়বে, নতুন কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করা যাবে, নানান মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরি হবে। এটা হবে কিনা হলফ করে বলবার কোন উপায় নাই। কিন্তু কাজটা আমাদের জরুরী মনে হয়েছে। এই আকুতি থেকেই আমরা নতুন সিনেমার সম্ভাবনার কথাও ভাবতে পারছি। এটা শুধু সিনেমার আকুতি নয়, সাহিত্যের আকুতি’।
জেআই





