রোববার (২৪ নভেম্বর) চালানো বিশেষ অভিযানে তাকে এক ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসা থেকে পাওয়া যায়।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ৫৬ বছর বয়সি ওই নারী অভিযানের সময় নিয়োগকর্তার নির্দেশে গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন। বহু বছরের আতঙ্ক ও ভয় তাকে এমন আচরণে বাধ্য করেছে বলে কর্মকর্তাদের ধারণা।

তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি বৈধ নথি ছাড়াই গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন। প্রতিশ্রুত ৬০০ রিঙ্গিত বেতনের বিপরীতে গত দুই বছর তিনি কোনো বেতনই পাননি। একই সঙ্গে তার ওপর চলত নিয়মিত বকাঝকা ও শারীরিক নির্যাতন।

এ ছাড়া তিনি নিজের পাসপোর্ট রাখতে পারতেন না, ফোন ব্যবহারেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সুযোগ পেলেই তিনি বিশ্রাম নিতেন—এমন সময় যখন কেউ টের পেত না।

অভিযানের পর ৫১ বছর বয়সি এক মালয়েশীয় পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে ওই নারী তার বাড়িতে গৃহকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন।

ঘটনাটি অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭ (ATIPSOM Act 670)–এর আওতায় তদন্ত হচ্ছে। অভিযানে ইমিগ্রেশনের ATIPSOM প্রতিরোধ শাখা ও অর্থপাচারবিরোধী ইউনিট অংশ নেয়। মানবপাচারের শিকার শনাক্তে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনডিকেটরস ২.০’ অনুসরণ করা হয়।

জনগণকে মানবপাচার বা গৃহকর্মী শোষণের যেকোনো তথ্য জানাতে ০৩-৮৮৮০১৪৭১ নম্বরে যোগাযোগ বা [email protected] ই-মেইলে তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক জাকারিয়া বলেন, মানবপাচার সম্পর্কিত প্রতিটি অভিযোগ তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএইচ