গত রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে নিউইয়র্কের বাইতুল মামুরে নর্থ আমেরিকান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ (নাহার) নিউইয়র্ক নর্থ ও সাউথ জোনের জনশক্তিদের নিয়ে আয়োজিত ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ’ (কৃতজ্ঞতার মধ্যাহ্নভোজ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহারের প্রেসিডেন্ট ডা. আতাউল হক ওসমানীর সভাপতিত্বে এবং নাহারের পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন মজুমদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইমাম দেলোয়ার হোসাইন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাহারের স্বপ্নদ্রষ্টা আবু আহমেদ নুরুজ্জামান ও মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরমান চৌধুরী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন মুনার নিউইয়র্ক সাউথ জোনের সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ, নিউইয়র্ক নর্থ জোনের সভাপতি মুমিন মজুমদার এবং নাহারের সাউথ জোনের পরিচালক আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

ইমাম দেলোয়ার হোসাইন পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বালাদের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করে ‘আকাবা’ ও ‘মারহামাহ’র তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আকাবা’ হলো জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার কঠিন পথ। এই পথে যেতে হলে মানবতার পাশে দাঁড়াতে হবে, অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে হবে এবং দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষ যদি আকাবার এই পথে অটুট থাকতে পারে, তাহলে জান্নাতই হবে তার ঠিকানা। এ সময় তিনি ‘মারহামাহ’ বা পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাহাবায়ে কেরামের জীবন থেকে মুহাজির ও আনসারদের পারস্পরিক সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন।

ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক মুসলিম বসবাস করেন। তাদের প্রত্যেকের কাছে মানবতার সেবার আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মানবকল্যাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ছোট ছোট উদ্যোগ একসময় একটি বিশাল মহিরুহে পরিণত হতে পারে।

আবু আহমেদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতার কারণেই আজ আমরা এ পর্যায়ে পৌঁছেছি।’ তিনি বলেন, নাহারের স্বপ্ন একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা রেড ক্রিসেন্টের মতো বিশ্বব্যাপী মানবতার কল্যাণে কাজ করবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তে শিশুরা খাবারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, অথচ আমেরিকার শিশুরা আনন্দে আপেল ছুড়ে খেলছে। এই বৈষম্য দূর করতে মানবতার সেবায় আমাদের আরও ব্যাপকভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কমিউনিটির প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। শুধু মুসলমান নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য নাহার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরমান চৌধুরী বলেন, ‘নাহার কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি মানবতার জন্য কাজ করে।’ তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত অনেক মানুষ মানবতার কাজে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে হবে। মানুষের দেখানোর জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই নাহারের কর্মীরা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, নাহারের কর্মীদের চরিত্র, আচরণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনেক মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে পারছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাহারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হলে সবাইকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, নাহারের সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তারা কেউ ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না; মানবতার কল্যাণেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

সভাপতির বক্তব্যে নাহারের প্রেসিডেন্ট ডা. আতাউল হক ওসমানী বলেন, গাজা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সোমালিয়া, সুদানসহ আফ্রিকার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে নাহারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভূমিকম্প, বন্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ বিভিন্ন মানবিক খাতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এতিম শিশুদের শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। মানবতার পাশে আরও ব্যাপকভাবে দাঁড়াতে হলে আমাদের আরও অর্থের প্রয়োজন। বিশেষ করে সুদান ও সোমালিয়ায় খাদ্যসংকটে থাকা শিশুদের জন্য আরও বড় পরিসরে সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে নাহারের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাহারের পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম, দুর্যোগে সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে নাহারের নর্থ ও সাউথ জোনের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তি ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মানবতার সেবায় নাহারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এনএইচ