ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফুর রহমান। চোখ ওঠার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, চারদিন আগে হঠাৎ করেই শরীর ব্যথা, হাল্কা জ্বর দেখা দেয়। সেই সঙ্গে চোখ জ্বালাপোড়া, চুলকানো আর চোখ থেকে পানি পড়া শুরু হয়। প্রথমদিন বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরেরদিন সকালে দেখি চোখ খুলতে পারছি না। চোখের কোনায় অনেক বেশি ময়লা জমেছে। চোখের জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি ব্যথাও অনুভব করছিলাম। আয়নার সামনে গিয়ে দেখি চোখ একদম লাল হয়ে গেছে এবং কিছুটা ফুলেও গেছে।

তিনি বলেন, আমার চোখ ওঠার দুই দিন পরই ছোট ভাইয়েরও দেখি একই অবস্থা। আমার অবস্থা এখন কিছুটা ভালোর দিকে হলেও ছোট ভাইয়ের সমস্যাটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। জানি না পরিবারের বাকি সদস্যদেরও চোখ ওঠার সমস্যায় পড়তে হয় কি না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখ ওঠা হলো একটি কনজাংকটিভাইটিস বা চোখের প্রদাহজনিত রোগ। প্রতিবছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে এই রোগটি ছড়াতে দেখা যায়। এটি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এবছর হঠাৎ করেই রোগটির প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বর্তমানে চোখ ওঠা রোগটি করোনা সংক্রমণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা শ্বাসনালীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে করোনার নতুন ঢেউয়ের সৃষ্টি ঘটিয়েছে। এমনকি এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের অংশ থেকে নমুনা নিয়ে পিসিআরে পরীক্ষা করলেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্পৃক্ততা উঠে আসতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।

অন্যদিকে আক্রান্ত যাত্রীদের বিদেশভ্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, করোনাভাইরাসের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো- জ্বর, সর্দি, ক্লান্তি, স্বাদ বা গন্ধ হারানো। এছাড়াও আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। সেগুলো হলো- চোখ লাল হওয়া বা চোখ জ্বলা, ত্বকে ফুসকুড়ি বা আঙুল বা পায়ের পাতার বিবর্ণতা, ডায়রিয়া, শরীর ব্যথা ও যন্ত্রণা। তবে কোভিডের গুরুতর উপসর্গগুলো হলো- নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া বা শ্বাসকষ্ট, কথাবলার বা চলাফেরার ইচ্ছা হারানো বা বিভ্রান্তি, বুক ব্যথা।

চোখ ওঠা রোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত সপ্তাহখানেক ধরে চোখ ওঠা নিয়ে অসংখ্য রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসছে। এছাড়া আমাদের বরিশাল ও চট্টগ্রাম সেন্টার থেকেও চোখ ওঠার সমস্যা নিয়ে রোগী আসার তথ্য পেয়েছি। এটি একটি ভাইরাল ইনফেকশন। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। তবে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি সেলফ কিউরিং ডিজিজ, ওষুধ ব্যবহার করলে দ্রুত ভালো হয়। তবে অনেক সময় এ ইনফেকশন চোখের কর্নিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই চোখ উঠলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি কর্নিয়ায় সংক্রমণ না ছড়ায় তাহলে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কর্নিয়ায় ছড়ায় সেক্ষেত্রে ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন। যদি চোখ ওঠার পর কেউ ঝাপসা দেখেন, তাহলে বুঝতে হবে কর্নিয়াতে ছড়িয়েছে। তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

ডা. গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, সব সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। সতর্কতা হিসেবে সবার উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

করণীয় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, চোখ ওঠার সঙ্গে হাত ধোঁয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে যাদের এই রোগ হবে, তারা যেন সানগ্লাস ব্যবহার করে তা নিশ্চিত করতে হবে। চোখে রোদ যত কম লাগবে জ্বালাপোড়া তত কমবে। আর অন্যদের মধ্যে ছড়াবে না। এজন্য অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। কারও অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এমআই