সৌদি রাজতন্ত্র-বিরোধী নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প মোটেই আন্তরিক নন এবং এই কারণে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) তুরস্কের ‘হাবেরতুর্ক টিভি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খাশোগির বাগদত্তা বলেন, আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে তাকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

খাদিজার সঙ্গে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে নিহত হন জামাল খাশোগি। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অন্তত চারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে সৌদি আরব সম্প্রতি স্বীকার করেছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় রাজ পরিবারের জড়িত থাকার কথা এখনো অস্বীকার করে যাচ্ছে রিয়াদ। যদিও তুরস্কের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছে, সৌদি যুবরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করছেন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ‘হয়ত’এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি সৌদি আরবের কাছে ১১০ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির চুক্তি বাতিল করতেও অনীহা প্রকাশ করেছেন।

এই অবস্থায় খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ গতকাল(শুক্রবার) তুর্কি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুসজল নয়নে বলেন, সৌদি সরকার খাশোগিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে সামান্যতম ধারনা পেলেও তিনি তাকে ওই কনস্যুলেটে যেতে দিতেন না। 

তিনি বলেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত যারাই এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে তাদের সবার বিচার করে শাস্তি দিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে খাদিজা জানান, কোনো সৌদি কর্মকর্তা এখন  পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

সৌদি আরবে যদি কখনো খাশোগির লাশ পাওয়া যায় তাহলে তিনি তার জানাযায় অংশগ্রহণ করতে দেশটি সফরে যাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সে সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দেন। 

প্রথমবারের মতো জামাল খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, সৌদি আরবে তার পরিবার সম্পর্কে আমার কাছে খুব বেশি তথ্য ছিল না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক কারণে তার আগের বিয়ে ভেঙে গেছে। তিনি খুবই দুঃখিত ও বিষণ্ণ ছিলেন।

“সৌদি আরবে তার বন্ধুদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি জানতেন না বলে খাশোগি আক্ষেপ করতেন।” যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েকশ ভিন্ন মতাবলম্বীকে আটক রেখেছেন। যাদের মধ্যে খাশোগির বন্ধুরাও ছিলেন।

খাদিজা বলেন, জামাল খাশোগিকে সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী বলা ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। কারণ দেশটি এক ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবে অবস্থান করা তার বন্ধুরা লিখতে পারছিলেন না। কাজেই লেখালেখি করাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন খাশোগি।

এমবি