ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মৃত্যু এবং প্রতিবন্ধিতার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে জাতীয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ডব্লিউএইচওর বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে।
শুধু আয়ু বাড়লেই স্বাস্থ্য পরিস্থিতির পুরো চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৩ সালে বিশ্বে মানুষ গড়ে ৬২ দশমিক ৮ বছর সুস্থভাবে বেঁচেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এ হার এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।
ডব্লিউএইচওর ডেটা, ডিজিটাল হেলথ, অ্যানালিটিকস ও এআই বিভাগের পরিচালক ড. অ্যালাঁ ল্যাব্রিক বলেন, দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা জনস্বাস্থ্যের বড় অর্জন। তবে অতিরিক্ত বছরগুলো মানুষ কতটা সুস্থভাবে কাটাতে পারছে এবং পরিবর্তিত জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত—এগুলোই পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।
ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর কারণেও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে নিম্নআয়ের দেশগুলোতে প্রথমবারের মতো মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও কম হয়েছে সংক্রামক রোগের কারণে।
অন্যদিকে, বিশ্বে মোট মৃত্যুর ৭৪ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। ২০০০ সালে এ হার ছিল ৫৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে বিশ্বের মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ।
হৃদ্রোগ এখনো বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ। ২০২৩ সালে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে আনুমানিক ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের সুস্থ জীবনের প্রায় ২১ কোটি বছর হারিয়েছে।
২০০০ সালের পর বিশ্বের অনেক অঞ্চলে হৃদ্রোগের বোঝা কমাতে অগ্রগতি হলেও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ব্যক্তিপ্রতি ঝুঁকি বেড়েছে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যও স্পষ্ট হয়েছে।
বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত ডিমেনশিয়াও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠছে। ২০০০ সালে বিশ্বে মৃত্যুর ১৯তম প্রধান কারণ ছিল ডিমেনশিয়া। ২০২৩ সালে এটি উঠে এসেছে পঞ্চম অবস্থানে। এই সময়ে ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০০ সালের পর ডায়াবেটিসে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ প্রবণতা বেশি।
২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক হিসাবে বিষণ্নতাজনিত রোগের কারণে হারানো সুস্থ জীবনের হার প্রায় ২০ শতাংশ এবং উদ্বেগজনিত রোগের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
ডব্লিউএইচওর ড. ল্যাব্রিকের মতে, এসব পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সময়ে রোগের বোঝা এবং মৃত্যুর কারণ কীভাবে বদলাচ্ছে, তা বোঝার মাধ্যমে দেশগুলো স্বাস্থ্যনীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।
অর্থাৎ মানুষের আয়ু দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি বার্ধক্য, হৃদ্রোগ, ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এস











