প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে চীনে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আজ শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে ৭২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রায় ২০ বছর আগে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং হংকংয়ে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। খবর সাউথ চায়না মনিং পোস্ট’র।
প্রায় দুই দশক আগে চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংয়ে সার্স ভাইরাসের মহামারীতে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে নতুন করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা।
চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। হুবেই প্রদেশে কমপক্ষে ৮১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। চীনজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫৪৬ জনে। হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
করোনায় সংক্রমণের শিকার হওয়াদের মধ্যে উহান শহরের বাসিন্দা সর্বোচ্চ সংখ্যক হলেও পার্শ্ববর্তী শিয়াও-গান শহরে দুই হাজারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেন, চীনা সরকার ব্যাপকভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
করোনাভাইরাস যুদ্ধে ধীরে ধীরে সফলতাও পাচ্ছেন তাঁরা। তাই মহামারি মোকাবিলায় তাঁর সরকার আত্মবিশ্বাসী। দীর্ঘমেয়াদে চীনসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করেন শি জিনপিং।
এদিকে, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় করোনাভাইসের সংক্রমণ নিয়ে গতকাল শুক্রবার একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। তাতে চীন, হংকং, ম্যাকাও ছাড়াও ২৫টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়। তারা বলছে, চীনের বাইরে হংকংয়ে একজন মারা গেছে, আক্রান্ত হয়েছে ২২ জন, ম্যাকাওতে আক্রান্ত ১০ জন। জাপানে আক্রান্ত ৮৬ জন, সিঙ্গাপুরে ৩০, থাইল্যান্ডে ২৫, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৪, অস্ট্রেলিয়ায় ১৪, জার্মানিতে ১৩, যুক্তরাষ্ট্র ১২, তাইওয়ানে ১৬, মালয়েশিয়ায় ১৪, ভিয়েতনামে ১২, ফ্রান্সে ছয়, আরব আমিরাতে পাঁচ, কানাডায় ছয়, ভারতে তিনজন; ফিলিপাইনে মারা গেছেন একজন, আক্রান্ত আরো দুজন; রাশিয়া ও ইতালিতে দুজন করে চারজন ও যুক্তরাজ্যে তিনজন। এ ছাড়া একজন করে রোগী পাওয়া গেছে বেলজিয়াম, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, স্পেন, কম্বোডিয়া ও ফিনল্যান্ডে।
অন্যদিকে জাপানি প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৬১ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২১ জন জাপানি, আটজন মার্কিনি, পাঁচজন অস্ট্রেলিয়ার ও পাঁচজন কানাডার নাগরিক রয়েছেন।
এএস





