সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যকার সম্ভাব্য মীমাংসাকে স্বাগত জানিয়ে একটি টুইট পোস্ট করার অপরাধে আটক প্রখ্যাত আলেম শেখ সালমান আল-আওদার বিরুদ্ধে শুনানি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

তাকে শিরোশ্ছেদের সাজা দেয়া হতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যেই রোববার তার ছেলে আবদুল্লাহ আল-আওদা এ খবর দিয়ে বলেন, আমার বাবাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। শুনানি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এই আলেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত করা হয়েছে। অতি রক্ষণশীল সৌদি আরবে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের সময় তিনি গ্রেফতার হন।

আওদার পরিবার ও সৌদি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সরকারি কৌঁসুলিরা তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা প্রকাশ করা হয়নি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। মাসের পর মাস নির্জন কারাবাসে আটক ছিলেন তিনি। এ সময়ে কারও সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। কারাগারে মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হন এই মুসলিম ধর্মীয় নেতা।

অ্যামনেস্টির তথ্যানুসারে সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যকার সম্ভাব্য মীমাংসাকে স্বাগত জানিয়ে একটি টুইট পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি আটক হন।

২০১৭ সালের জুনে দোহার সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটিকে একঘরে রাখে সৌদি আরব এবং মিত্ররা। কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশটি ইসলামী উগ্রপন্থিকে সহায়তা করছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করছে কাতার।

আল-আওদার পরিবার জানায়, সৌদি আরব দাবি করেছে যে আল-আওদা ও অন্য বিখ্যাত ব্যক্তিরা যাতে এই বিতর্কে রিয়াদকে সমর্থন করেন। কিন্তু তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কৌঁসুলিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে তার বিচারের শুনানি স্থগিত হয়েছিল।

অ্যামনেস্টি জানায়, সৌদি আরব সব সময় দাবি করে আসছে যে, তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই বিচার কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রেও তারা একই দাবি করছে। গত এপ্রিলে ৩৭ জনের শিরোশ্ছেদ করেছিল দেশটি। কিন্তু এ সব বিচার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সূত্র: এএফপির।

এসএম