বুধবার হোয়াইট হাউসে নতুন একটি হেলিপ্যাড উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ দাবি করেন।

ট্রাম্প বলেন, কিমের কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতা গড়ে উঠতে দেওয়া উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি এখন ভিন্ন হওয়ায় কিমের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরও বলেন, কিমের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান ট্রাম্প।

তবে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি পরমাণু বোমা থাকার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৬০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, দেশটির বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর ধারণা অনুযায়ী এই সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে হতে পারে। তবে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

চলতি বছরের শেষ দিকে কিম জং উনের সঙ্গে আবারও সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনের সময় দুই নেতার বৈঠক হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি আগ্রহী।

এর আগে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেন। ২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে তাদের প্রথম ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল কোনো দায়িত্বশীল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও কিম। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

একই বছরের জুনে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিক অঞ্চলে তৃতীয়বার সাক্ষাৎ করেন তারা। ওই সময় ট্রাম্প প্রথম দায়িত্বশীল মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রাখেন।

সূত্র: রয়টার্স

এস