মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব অথবা বৈধতা দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিয়ো গুতেরাস।

চলমান অস্থিরতা উগ্রবাদকে উস্কে দিবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সাংবাদিকদের দেয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিয়ো গুতেরাস।

এসময় গুতেরাস সাংবাদিকদের তার উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা দেশান্তরি হয়েছেন। যা এতদঅঞ্চলের অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মির সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিয়ো গুতেরাস বলেন , সম্প্রতি রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি হামলা চালালেও মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সহিংসতার প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। আর এসব হামলা অসহিঞ্চু ও বাচবিচারহীন। আর এধরনের হামলা উগ্রপন্থাকেই কেবল বাড়িয়ে তুলবে।

গুতেরাস আরো জানান, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে বহুমুখি পদক্ষেপ নিতে তিনি শিগগিরই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে তার উদ্বেগের কথা জানাবেন।

উত্তেজনা প্রশমন ও সংকটের সর্বাত্মক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী সহযোগিতা যাতে সহজে পৌছতে পারে সেজন্য মিয়ানমার সরকারকে নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দেরি না করে সংকটের গভীরে যাবার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানান ।

তিনি আরো বলেন, এটা খুব জরুরি যে হয় রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দিতে হবে অন্যথায় এখনই বৈধ অধিকার দিতে হবে যাতে করে তারা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে। যাতে তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে, শ্রমবাজারে ঢুকতে পারে, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মহাসচিব জানান, বাংলাদেশের পাশে আছেন তিনি।

এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন আগামী তিনমাসের জন্য বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় জাতিসংঘের কাছে ১৮ মিলিয়ন ইউএস ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে বলে সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

আগামী সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

জেড