সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা জানায়, চলমান সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক সহায়তা দেবে ফরাসি সরকার। তবে এ ক্ষতিপূরণের অর্থ সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকেই আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতিসাধনকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়। একই সঙ্গে দাঙ্গা ও লুটপাটের কারণে যাঁরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, তাঁদের সহায়তায় আংশিক বেকারত্ব তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে দ্রুত তহবিলের সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্তে প্যারিসে অভিযান

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী চলমান বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাটের জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সোমবার প্যারিসে বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

লেকর্নু জানান, এ অভিযানে প্রায় ২০০ কর্মকর্তা অংশ নেবেন। তাঁরা সহিংসতার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ করবেন।

পদত্যাগের প্রস্তাব নুনেজের, প্রত্যাখ্যান ম্যাক্রোঁর

এদিকে বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। তবে ম্যাক্রোঁ তাঁর পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁকে দায়িত্বে বহাল থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং শিক্ষা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের পাশাপাশি সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এস