সূর্য নমস্কার এবং নামাজের মধ্যে মিল থাকার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার তিনি লক্ষনৌতে যোগ মহোৎসব অনুষ্ঠানে সূর্য নমস্কার এবং নামাজের মধ্যে যোগসূত্র থাকার কথা বলেন। এরপর থেকে তার মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আদিত্যনাথ বলেন, ‘সূর্য নমস্কারের আসনের ভঙ্গি, মুদ্রা, প্রাণায়ামের কৌশলের সঙ্গে নামাজ পড়ার ভঙ্গির মিল আছে। কিন্তু কিছু লোক সূর্য নমস্কারে ধর্মের রং লাগায়।’
তিনি বলেন, ‘সূর্য নমস্কার আর নামাজে মিল থাকলেও এত দিন কেউ তাদের মেলানোর চেষ্টা করেনি। কারণ, ক্ষমতাসীনরা কেউ যোগ ব্যায়ামে আগ্রহী ছিলেন না। তারা ভোগে আগ্রহী ছিলেন। যারা বিভাজন করেন, তারা মানুষকে একজোট করতে পারবেন না। যোগেও তাদের বিশ্বাস থাকা সম্ভব নয়।’
২০১৫ সালের জুনে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যোগ ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নিতে মুসলিমরা আপত্তি জানায়। সেসময় আদিত্যনাথ মন্তব্য করেছিলেন, যারা সূর্য নমস্কারের বিরোধিতা করছেন তাদের সাগরে ডুবে মরা উচিত।
এ নিয়ে হিন্দি বেসরকারি এক টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাওলানা মুহাম্মদ সাজিদ রশিদি বলেছেন, ‘যোগ ব্যায়াম এবং নামাজ সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। তিনি সরাসরি সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে নামাজ পড়ে দেখান এবং বলেন, এবার আপনারাই বিচার করে দেখুন যোগ ব্যায়াম বা সূর্য নমস্কারের সঙ্গে নামাজকে যুক্ত করা কতটুকু সঠিক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নামাজ পড়ার পদ্ধতি এবং যোগ ব্যায়াম বা সূর্য নমস্কারের ভঙ্গিমা সম্পূর্ণ আলাদা। নামাজ আল্লাহ্র হুকুম। নামাজে আল্লাহ্র সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয়।’
ওই অনুষ্ঠানে এরআগে যোগগুরু নামে পরিচিত বাবা রামদেব যোগ ব্যায়াম ও সূর্য নমস্কারের ভঙ্গিমা দেখিয়ে যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্যের পক্ষে সাফাই দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাওলানা সাজিদ রশিদি তার সাফাই প্রত্যাখ্যান করেন।
উত্তর প্রদেশে মজলিশ-ই ইতেহাদুল মুসলেমিন (মিম) মুখপাত্র সাইয়্যেদ অসিম ওয়াকার বলেন, ‘সূর্য নমস্কার ও নামাজে মিল থাকলে, কাল থেকে যোগীই নামাজ পড়ুন। সকলকে যোগ ব্যায়াম করতে বলছেন কেন?’
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য কামাল ফারুকি বলেন, ‘সূর্য নমস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অর্থহীন। মুসলিমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে না।’ ভারতে মুসলমানদের নামাজ আদায়
সিপিআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য সীতারাম ইয়েচুরির মতে, ‘বিতর্ক তৈরি করতেই যোগীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছেন।’ আগামী জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর প্রদেশের লক্ষনৌতে যোগ দিবস পালন করা হবে। বুধবারের যোগ মহোৎসব অনুষ্ঠানকে তারই প্রস্তুতি বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। পার্সটুডে
জেড





