করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন চলছে। প্রতিটি রাজ্যের পুলিশও কঠোরভাবে লকডাউনের এই নির্দেশিকাগুলো যাতে মানুষ মেনে চলে সে ব্যাপারে নজর রাখছে। অনুসরণ করছে।
এই সময়ে, শুধুমাত্র অত্যবশ্যকীয় পণ্য পরিবহণে ছাড় রয়েছে। হঠাৎ করে এই লকডাউন জারি হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ নিজের ঘরবাড়ি থেকে দূরে আটকে পড়েছেন। ঠিক যেমনভাবে দেশটির তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে আটকে পড়ে এক কিশোর।
কিন্তু ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে ত্রাতা হলেন তাঁর মা। রাজিয়া বেগম নামের ওই মহিলা নিজের ছেলেকে উদ্ধারের জন্যে স্থানীয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে নিজের স্কুটিতে করে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোরে যান। একাই ১৪০০ কিমি পাড়ি দেন তিনি। শেষপর্যন্ত ছেলেকে স্কুটির পিছনে বসিয়ে বাড়ি ফেরেন রাজিয়া (৪৮)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর জানিয়েছে।
সোমবার থেকে বুধবার (০৮ এপ্রিল), ছেলেকে ঘরে ফেরানোর জন্যে যেন ৩ দিনের এক যুদ্ধ জয় করলেন তিনি।
রাজিয়া বেগম নামে বছর আটচল্লিশের ওই মহিলা বলেন, “একটি ছোট দু-চাকার গাড়িতে একা একজন মহিলার পক্ষে এই সফর করা মোটেই সহজ ছিল না। তবে ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেই হবে, আমার এই অদম্য ইচ্ছার সামনে সব ভয় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সঙ্গে শুধু ক’টি রুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ছিলাম। রাতে যানজট নেই, রাস্তায় কোনও লোক নেই, যদিও রাস্তাঘাট এত ফাঁকা থাকায় ভয়-ভয় করছিল, তবে আমি আমার সিদ্ধান্তে স্থির ছিলাম।”
রাজিয়া হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে নিজামবাদে একটি সরকারি স্কুলে চাকরি করেন। ১৫ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। তারপর থেকে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে একা হাতেই জীবনযুদ্ধে লড়ে চলেছেন তিনি। তাঁর বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ছোট ছেলে নিজামুদ্দিন, যাঁকে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে নিয়ে আসতে গিয়েছিলেন সে ১৯ বছরের, পড়াশোনা করে চিকিৎসক হতে চায় সে।
নিজামুদ্দিন কিছুদিন আগেই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং এখন সে এমবিবিএসের প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করার জন্যে বিশেষ কোচিং নিচ্ছে। সে গত ১২ মার্চ নেল্লোরের রহমতবাদে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে কিছুদিন তাঁর সঙ্গে ছিলও সে। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই করোনার কারণে গোটা দেশে লকডাউন ঘোষিত হওয়ায় বন্ধুর বাড়িতেই আটকে পড়ে সে। সে চাইছিল বাড়ি ফিরতে, কিন্তু কোনও যানবাহন না থাকায় ফেরার কোনও উপায় ছিল না।
ছেলের এই অবস্থা দেখে রাজিয়া বেগম ঠিক করেন যে তিনি ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন। পুলিশের ভয়ে তিনি বড় ছেলেকে না পাঠিয়ে নিজেই স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ০৬ এপ্রিল সকালে তিনি তেলেঙ্গানার বাড়ি থেকে বের হন, গোটাদিন স্কুটি চালিয়ে পরদিন বিকেলে নেল্লোর পৌঁছন তিনি। তারপর সেখান থেকে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ফের বাড়ির দিকে রওনা হবেন তিনি।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) সন্ধে নাগাদ বাড়িতে ফেরেন ওই মহিলা। সবাই রাজিয়া বেগমের এই সাহস ও উদ্যমের প্রশংসা না করে পারছেন না।
এমবি





