২০১৫ সালে হাঙ্গেরিতে সিরিয় শরণার্থীদের একটি দলের সংবাদ সংগ্রহের সময় এক বাবা ও শিশুকে লাথি মারার ঘটনায় এক নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে সে দেশের একটি আদালত।
ঘটনার এক বছর পর বুধবার এন ১ টিভি’র ক্যামেরাপারসন পেত্রা লাসজলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এবং আদালতের প্রসিকিউটর এ ব্যাপারে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেছে।
এদিকে অভিযুক্ত ওই সাংবাদিক পরবর্তীতে আদালতের কাছে অনুশোচনা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় হুড়োহুড়িরত শরণার্থীদের লাথি মারেন ওই টিভি সাংবাদিক।
শিশুসহ ওই দুই শরণার্থীকে লাথি মারায় হাঙ্গেরিয়ান ওই নারী ফটোসাংবাদিক চরম সমালোচনার সম্মুখীন হন।
সার্বিয়া সীমান্ত সংলগ্ন রোসজকি গ্রামে শরণার্থীদের নিবন্ধন শিবিরের কাছে খবর কভার করতে যান সাংবাদিকরা। এর মধ্যে হাঙ্গেরির এন ১ টিভি’র ক্যামেরাপারসন পেত্রা লাসজলো ছিলেন।
পুলিশের নির্ধারিত লাইনে এক পর্যায়ে শরণার্থীরা হুড়োহুড়ি শুরু করে। এ সময় এক শিশুকে কোলে নিয়ে দৌড়ানোরত এক ব্যক্তিকে লাথি মেরে ফেলে দেন পেত্রা। কিছুক্ষণ পর দৌড়ানোরত অপর এক শিশুকে লাথি মারেন তিনি।
ঘটনাটি উপস্থিত অন্যান্য টেলিভিশন সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর পরই এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পেত্রাকে চাকরিচ্যুত করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।
এন ১ টিভি’র প্রধান সম্পাদক জাবোলকস কিসবার্ক সে সময় জানিয়েছিলেন, আমাদের এক সহকর্মী রোসজকি’র ত্রাণ সংগ্রহ পয়েন্টে শরণার্থীদের সাথে অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ওই নারী ফটোসাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
শুধু এই নয়, ২০১৫ সালে শরণার্থীদের প্রতি রূঢ় আচরণ করে হাঙ্গেরি সরকার। তারা দেশটির মধ্য দিয়ে শরণার্থীদের যাতায়াতেও বাধা দেয়। অবশেষে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া শরণার্থীদের নিতে রাজি হলে সড়কপথ ব্যবহার করতে দেয় হাঙ্গেরি প্রশাসন। সূত্র: এএফপি, এপি, এনডিটিভি
এফএফ





