কলকাতার সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ঘিরে গড়ে উঠেছে পরিচিত ‘হোটেলপাড়া’। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের কাছে তুলনামূলক কম খরচে থাকার সুযোগ থাকায় এ এলাকার হোটেল-গেস্টহাউসগুলোর চাহিদা বেশি।

তবে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর এসব হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অনেক আবাসিক ভবনকে আংশিক বা পুরোপুরি হোটেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

পর্যটকদের অভিযোগ, বেশ কিছু হোটেলে জরুরি নির্গমন পথ নেই। সরু সিঁড়ি, অপর্যাপ্ত প্রবেশপথ এবং ভবনের ভেতরে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে রাখায় দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বের হওয়া কঠিন। কোথাও কোথাও অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করে এসি ও টেলিভিশন চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশি পর্যটক মো. উজ্জ্বল খান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে হোটেলের বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। তাঁর দাবি, অনেক হোটেলে নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই।

যাত্রাবাড়ী থেকে কলকাতায় যাওয়া এক পর্যটক বলেন, এত বড় শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় হোটেলগুলোর এমন বেহাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে নেওয়া কঠিন। তিনি হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ের দাবি জানান।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সমীর দাসও স্বীকার করেন, অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সোহেল নামের এক পর্যটক জানান, ঘটনার পর তাদের মনে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হয়েছে এবং অনেক পর্যটক দ্রুত হোটেল ছেড়ে দেশে ফিরছেন।

অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় দুই দেশের পর্যটকদের মধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য থাকায় বাংলাদেশে ঘটনাটি আরও গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে।

কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে ভিসা জটিলতা, দালালের দৌরাত্ম্য ও বেনাপোল সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষাসহ বিভিন্ন ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেছেন। এসবের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য কলকাতার পরিবর্তে চেন্নাই, ভেলোর, চীন কিংবা নেপালের মতো বিকল্প গন্তব্যের কথা ভাবছেন।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাকবলিত হোটেলের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তা ও বৈধতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলাকার হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর বৈধতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের এই তৎপরতায় অনিবন্ধিত ও অনিয়মে পরিচালিত হোটেলগুলোর মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এস