উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেছেন, ‘তিন তালাকের আশ্রয় নিয়ে মুসলিম পুরুষরা লালসা চরিতার্থ করার জন্য একনাগাড়ে স্ত্রী পরিবর্তন করে থাকেন। লালসা পূরণ করার জন্য কেউ যদি লাগাতার স্ত্রী বদল করে, স্ত্রী-সন্তানদের রাস্তায় ভিক্ষা করতে বাধ্য করে তা হলে তাকে কেউ ভালো বলবে না।’

এদিকে, স্বামীর ওই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সারা ভারত মুসলিম মহিলা পার্সোনাল ল’ বোর্ডের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মুসলিম মহিলা পার্সোনাল ল’ বোর্ডের চেয়ারম্যান শায়েস্তা আম্বার ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি পাগলা গারদে পাঠানোর দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘উনি (মৌর্য) অবশ্যই ইসলাম জানেন না। যদি তিনি ক্ষমা না চান তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টেও যাওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে আজ (শনিবার) সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজামান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘স্বামী প্রসাদ মৌর্যকে বলব, তারা তালাক প্রথা নিয়ে সমালোচনা করার আগে নিজেদের সমাজের মধ্যে যেসব কুসংস্কার গ্রাস করে রেখেছে সেগুলোই বরং তারা সংস্কার বা সমাধান করার জন্য এগিয়ে আসুন। ইসলাম ধর্মে তালাক প্রথার মধ্য দিয়ে নারীদের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ারও অধিকার আছে, যেটা তাদের সমাজে নেই।’

তিনি বলেন, ‘বহুক্ষেত্রে দেখা গেছে একজন হিন্দু নারী তালাকের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরে ১৫/২০ বছর পরে আদালত সমাধান দিয়েছে, যেসময় ওই নারীর বৈবাহিক প্রয়োজনীয়তা আর অবশিষ্ট থাকে না। এই ধরণের যে অব্যবস্থা তাদের সমাজে রয়েছে এগুলো সমাধান করার জন্য তারা এগিয়ে আসুন। তাছাড়া বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়ে মৃত্যুর আগেই তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার যে ব্যবস্থাপনা তার সমাধান করলে গোটা সমাজ উপকৃত হবে।’

কামরুজ্জামান বলেন, ‘তালাক প্রথা মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুদের মধ্যেই বেশি। এক জরিপে দেখা গেছে বিবাহবিচ্ছিন্না নারীদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ মুসলিম কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে এই হার ৬৮ শতাংশ।’

তার পরামর্শ- রাজনৈতিক ফায়দার আশায় মুসলিম নারীদের কথা না ভেবে হিন্দু নেতারা বরং তাদের সমাজ সংস্কারের কথা ভাবুন তাহলেই ভালো হবে।
জেড