ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দেশজুড়ে অধিকাংশ অনুমোদিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও প্যারিস, লিওঁ, রেন ও তুলুজ শহরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ৬৫ হাজার। এর আগে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ বলে প্রাথমিক হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

তবে দেশটির শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। তাদের হিসাবে শুধু প্যারিসেই সমবেত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী।

সিজিটি মহাসচিব সোফি বেনে ধর্মঘটকে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ উল্লেখ করে সরকারের প্রতি শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্যারিসের বিক্ষোভে তিনি বলেন, ‘কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না।’ এ সময় সব শ্রমিকের বেতন বাড়ানো এবং ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার মাতিনিয়ঁতে এ ‘সামাজিক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।

দেশজুড়ে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৮৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউর দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ শতাংশ কর্মী ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্যারিস ও বোর্দোসহ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি সরাতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের একটি আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার পরিবেশ, অর্থায়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের মধ্যেই এবার বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু

এনএইচ