'মানবিক খাতিরে' (!) বৃহস্পতিবার পাঁচ ঘণ্টার জন্য গাজায় হামলা বন্ধ রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হামলা বন্ধ রাখার এ ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘোষণা দেয় দখলদার ইহুদি এই রাষ্ট্রটি। খবর বিবিসি'র।
এদিকে, বিমান হামলায় বেসামরিক লোকজনের হতাহতের ঘটনাকে 'অত্যন্ত মর্মান্তিক' (!!!) বলে আখ্যায়িত করেছে ইসরাইল।
একেবারেই 'মানবিক খাতিরে' এই পাঁচ ঘণ্টার জন্য হামলা বন্ধ রাখা হবে বলে জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। এই সময়ের মধ্যে যাতে গাজার বেসামরিক নাগরিকেরা খাদ্য-দ্রব্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারে, এজন্যই হামলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুরোধের ভিত্তিতেই ইসরাইল এই 'দয়া' করছে বলে জানায় এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
'মানবিক খাতিরে' ইসরাইলের এ হামলা বন্ধ রাখার আগেরদিন (বুধবার) পর্যন্ত নয় দিনের হামলায় নিহত হয়েছেন ২১৩ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১৫৩০ জন এবং বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। গত সপ্তাহের সোমবার থেকে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল।
মঙ্গলবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ওই দিনই আবার ফিলিস্তিনে নির্বিচারে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। বুধবারও বেপরোয়া হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার গাজা থেকে ছোড়া রকেট হামলায় এক ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। ইসরায়েলি হামলার জবাবে গাজা থেকে ছোঁড়া অন্তত ১২০০টি রকেট হামলায় এই প্রথম কোনো নিহতের ঘটনা ঘটল। এ ছাড়া গুরুতর আহত হয়েছে আরো চার ইসরাইলি।
বুধবার হামাসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, বুধবার হামাসের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে, ইসরাইলের হুমকির প্রেক্ষিতে গাজার উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। বিমান থেকে প্রচারপত্র ফেলে ও রেকর্ড করা বার্তা প্রচার করে ফিলিস্তিনিদেরিএ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
গত নয় দিনে গাজার অন্তত এক হাজার ৭৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।
ইসরাইলের একতরফা সামরিক অভিযান বন্ধ করতে মিশর গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। মিশরের ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা। সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করে ইসরাইলি বাহিনী। কিন্তু হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে জানায়, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটি আত্মসমর্পণের সমতুল্য। হামাস পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তি ছাড়া রকেট হামলা বন্ধ করবে না। এরপর আবার গাজায় হামলা চালানো শুরু করে ইসরাইল।
এদিকে ইসরাইল-গাজা সীমান্ত ক্রসিংয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তাব তুলেছে ফ্রান্স। দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস বুধবার এই প্রস্তাব দেন। চলতি সপ্তাহে ওই প্রস্তাব নিয়ে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের আলোচনা হতে পারে। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা ও রয়টার্স
ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) এসএমএ





