বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন যতই বাড়ছে, ততই বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা৷ এ কারণে এই শতকেই বিশ্বের অনেক মানুষ খাদ্যাভাবে পড়বে, বাড়বে স্বাস্থ্য ঝুঁকি৷ আর তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানুষে মানুষে হানাহানি৷
সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ আইপিসিসি-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে৷ ৩২ ভলিউমের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব এই অবস্থা মোকাবিলার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়৷
আইপিসিসি-র সভাপতি রাজেন্দ্র পাচৌরি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা যদি ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায় তবে ঝুঁকির পরিমাণও সেই অনুপাতে বাড়বে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব থেকে বিশ্বের কোনো মানুষই রেহাই পাবেন না৷
জাপানের ইয়োকোহামায় পাঁচ দিনের জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠকের পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়৷ এতে বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণে দেখা দিয়েছে তারতম্য, ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে৷ শুধু তাই নয়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পানি সংকট এবং খরা দেখা দেবে বলেও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ এর ফলে ফসল ভালোমত হবে না, দেখা দেবে খাদ্য ঘাটতি৷
যদিও প্রতি ১০ বছরে ফসলের উৎপাদন ১০ ভাগ বেড়েছে, কিছু জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় তা অপ্রতুল৷ বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হবে এর ফলে মানুষের ক্ষুধা নিবৃত্তি কঠিন হয়ে পড়বে৷ বেড়ে যাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম৷ দরিদ্র মানুষেরা চরম খাদ্যাভাবে পড়বেন৷ জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় খাদ্যের ঘাটতির কারণে শুরু হবে হানাহানি৷ এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার উৎপাত এবং পানিবাহিত রোগ ব্যাপক হারে ছড়াবে৷ ফলে দেখা দিবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি৷ সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, ডিডব্লিউ।
[b]ঢাকা, ৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) //  টিআই[/b]