সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা সরকার প্রধানদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে হোটেল সল্ট্রিতে। শহরের কাছেই কালিমাটি এলাকায় অবস্থিত নয়নাভিরাম হোটেল সল্ট্রি। একই প্রাচীর ঘেরা হোটেলটিতে রয়েছে ৪টি মাঝারি আকারের ভবন। নাম দেয়া হয়েছে ক্রাউন প্লাজা, প্রিন্সেপ, রিগ্যাল এবং হিমালয়।
প্রিন্সেপ ভবনে থাকবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠিক তার সামনে পাহাড়ি ঢালু পথের রিগ্যাল ভবনে থাকবেন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬ দেশের সরকার প্রধানরা। একটু দূরেই সবচেয়ে উচুঁ ভবন হিমালয়ে থাকবেন হিমালয় কন্যা নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা।
অন্য যেসব সরকার প্রধান রিগ্যাল ভবনে থাকবেন তারা হলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামীন, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজা পাকসে এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে এ তথ্য।
সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে একে একে আয়োজক দেশ নেপালের কাঠামন্ডুতে এসে পৌঁছাবেন সার্কের অপর সাত সদস্য রাষ্ট্রের সরকার প্রধানরা। আয়োজক দেশ হিসেবে ত্রিভূবন আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে তাদেরকে স্বাগত জানাবে নেপাল। বিমান বন্দর থেকে সব শীর্ষ প্রধনকে বিশেষ প্রটোকল প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হবে হোটেল সল্ট্রিতে।
হোটেলটির তিনটি ভবনে থাকবেন সার্ক শীর্ষ নেতারা। বাকি একটি রাখা হয়েছে সার্ক কেন্দ্রীক প্রয়োজনীয় বৈঠক করার জন্য। একটি ভবন থেকে আর একটির দূরত্ব প্রায় পঞ্চাশ থেকে একশত গজ পর্যন্ত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে সকাল ৯টায় সর্ব প্রথম কঠমান্ডুর ত্রিভূবন বিমান বন্দরে নামবেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজা পাকসে। এর পরে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির বিমান অবতরণ করবে বেলা ১১টার দিকে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে নামার কাথা রয়েছে বেলা পৌনে ১২টায়। এরপরই মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিকে বহনকারী বিমানটি নামবে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুপুর ৩টার পরে ভারতীয় একটি বিশেষ বিমানে ত্রিভূবনে অবতরণ করবে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পাকিস্তান এয়ার লাইন্সের একটি বিমান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে নিয়ে রানওয়েতে স্পর্শ করবে বলে সূত্রে জানা গেছে। ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী প্রায় একই সময়ে কাঠমান্ডুর আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে নামতে পারে।
এদিন সর্বশেষ বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট শেখ হাসিনাকে নিয়ে কাঠমান্ডুর বিমান বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। ঢাকা থেকে বিমানটি ছাড়ার কথা রয়েছে বিকেল সোয়া তিনটায়।
কাঠমান্ডুর এই ছোট্ট আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি আর্ন্তজাতিক বিমান উঠা-নামা করে বলে জানাগেছে। একই দিনে বিমান বন্দরে ভিভিআইপিদের এতবড় বহর নামার ঘটনা বিরল। তাই বিমান বন্দরে নেয়া হয়েছে সর্বাত্বক প্রস্তুতি। বন্ধ করা হয়েছে সকল অভ্যন্তরীন ফ্লাইট। বিমান বন্দর থেকে সব শীর্ষ প্রধানকে বিশেষ প্রটোকল প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হবে হোটেল সল্ট্রিতে।
এসময় আকাশে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার চক্কর দিতে থাকবে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। সোমবার বিকালে হোটেলটির ভিতরে ঢুকলে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায় চোখে পড়ার মত। ভিভি আইপিদের জন্য নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপশি ব্যবহার করা হচ্ছে ডগ স্কোয়াডকে। দফায় দফায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
নেপালে অবস্থানকালে শীর্ষ নেতারা এই হোটেলেই থাকবেন। হোটেল এবং সম্মেলন ভেন্যুর নিরাপত্তা জোড়দার করার জন্য মঙ্গলবার থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত কাঠমন্ডুর সকল অভ্যন্তরীন ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
হোটেলটির প্রবেশমূখের সড়কে এবং চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বহিনীর অতিরিক্ত সদস্য সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকছে। প্রায় পাঁচশ গজ দূর থেকেই কোন ব্যাক্তি বা যানবাহন হোটেল অভিমূখে আসলেই নড়েচড়ে বসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যরা।
‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর প্রয়াস’কে প্রতিপাদ্য ধরে নেপালে আয়োজিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট সার্কের ১৮তম সম্মেলন। ২২ তারিখে শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে ২৭ তারিখ পর্যন্ত। ২৬ ও ২৭ তারিখে হবে সরকার প্রধানদের র্শীষ সম্মেলন।
কাঠমন্ডুর হোটেল সল্ট্রি থেকে





