সিচুয়েশনশিপ (Situationship) কী?
ইংরেজি ‘Situationship’ শব্দটির সরাসরি বাংলা কোনও প্রতিশব্দ নেই। তবে এই সম্পর্কের ধরন বিবেচনা করে বাংলায় সিচুয়েশনশিপকে ‘নামহীন সম্পর্ক’ বলা যায়। সিচুয়েশনশিপ এমন একটি রোমান্টিক সম্পর্ক যেখানে স্পষ্টভাবে সেই সম্পর্কের কোনও নাম, প্রতিশ্রুতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে না। এটি সাধারণ যে কোনও সম্পর্কের চেয়ে অনেক গভীর, তবে একটি পরিপূর্ণ সম্পর্কের চেয়ে অনেকটাই কম।
এ বিষয়ে আমেরিকার একটি গবেষণায় বলা হয়, ‘সিচুয়েশনশিপ এমন একটি সম্পর্ক যেখানে দুটি মানুষ একটি সাধারণ রোমান্টিক সম্পর্কের মতো প্রায়ই একসঙ্গে সময় কাটানো, স্নেহ-ভালোবাসার প্রকাশ এবং সম্পর্কের গভীরে জড়িয়ে থাকেন। তবে সেই সম্পর্কের স্পষ্ট কোনও নাম থাকে না।’
কেমন হয় এই সম্পর্ক?
সিচুয়েশনশিপে কমিটমেন্ট বা প্রতিশ্রুতির অভাব দেখা যায়। এই সম্পর্কটি কখনো কখনো একতরফাও হয়ে যেতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়, এই সম্পর্ক নিয়ে একজন সঙ্গীর অপরজনের চেয়ে বেশি আশা ও প্রত্যাশা থাকে। কেউ কেউ এটিকে পূর্ণতায় রূপ দিতে চান, যেখানে অপরজন এই সম্পর্কটি নিয়ে আর আগাতেই চান না। আবার কোনো কোনো সময় দেখা যায় পরিস্থিতির কারণে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ে। এক সময় সেটা শেষও হয়ে যায়।
তাই এই ধরনের সম্পর্কে একজন জড়াবেন কি না, জড়ালেও বা কতটুকু জড়াবেন সেই মাত্রাতেও ভিন্নতা থাকতে পারে।
মানুষ কেন সিচুয়েশনশিপে জড়ায়?
জীবনে কিছু সময় আসে যখন মানুষ এমন একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক খোঁজেন যেখানে তাকে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে না এবং কোনও প্রকার দায়-দায়িত্বও নিতে হবে না। তখন উভয় পক্ষের স্পষ্ট বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন একটি সম্পর্কের সূচনা হয়। তবে সবসময় ব্যাপারটা এতটা সহজ থাকে না। সমস্যা তখনই হয়, যখন একজন সঙ্গী সম্পর্কটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, আর অপরজন তা চান না।
উভয় পক্ষের স্পষ্ট বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিচুয়েশনশিপ সম্পর্কের সূচনা হয়।
সিচুয়েশনশিপ সম্পর্কের লক্ষণ
সিচুয়েশনশিপে থাকাকালীন একজন ব্যক্তি এই বিষয়গুলোর মধ্য দিয়ে যেতে পারেন-
১. সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আছে, তবে কোনও নাম নেই। আপনারা হয়তো একে অপরকে অনায়াসেই ভালোবাসার কথা জানাচ্ছেন তবে সম্পর্কটিকে কোনো নাম দেননি।
২. সম্পর্কটাকে নাম দেওয়ার বিষয়টি এলেই আপনি বা আপনার সঙ্গী উভয়েই এই আলোচনা এড়িয়ে যান।
৩. বর্তমানে আপনারা একসঙ্গে প্রচুর সময় কাটালেও ভবিষ্যত নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে চান না বা পারেন না।
৪. কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকায় আপনি প্রায়ই ঈর্ষাবোধ করেন এবং সম্পর্কটি নিয়ে সন্দেহে ভোগেন।
৫. আপনাদের দুজনের মধ্যে একজন এই সম্পর্ক নিয়ে অনেক ভাবেন।
রবার্ট স্টার্নবার্গের ভালোবাসার ত্রিমাত্রিক তত্ত্বমতে, ঘনিষ্ঠতা , আবেগ-আকর্ষণ এবং প্রতিশ্রুতি এই তিনটি উপাদানে ভালোবাসা গঠিত। সিচুয়েশনশিপে ঘনিষ্ঠতা ও আকর্ষণ তীব্র হলেও প্রতিশ্রুতির অভাব থাকে। আর প্রতিশ্রুতি না থাকলে কোনও সম্পর্কই প্রাণবন্ত থাকে না। গবেষণায় দেখা গেছে, সিচুয়েশনশিপে থাকা মানুষের মধ্যে ‘লিমারেন্স’ বা মোহাচ্ছন্নতার প্রবণতা বেশি। সম্পর্কের এই অনিশ্চয়তার কারণে এটি নিয়ে আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা ও মোহচ্ছন্নতার এক পর্যায়ে গিয়ে আরও বাড়ে যা মানসিক উদ্বেগের জন্ম দেয়।
সিচুয়েশনশিপ থেকে বের হয়ে আসার উপায়
সিচুয়েশনশিপ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসা কঠিন হলেও নিজের মানসিক শান্তির কথা চিন্তা করে এটি থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। এই সম্পর্ক শেষ করবেন যেভাবে-
আপনি যদি প্রতিশ্রুতি চান আর সঙ্গী যদি সেটি দিতে না চান তবে তা এখনই শেষ করা উচিত। কেননা, এই অপেক্ষা শুধু আপনার মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাই বাড়াচ্ছে।
হুট করে যোগাযোগ বন্ধ না করে সরাসরি নিজের সিদ্ধান্ত জানান। এতে সম্পর্কের স্পষ্ট সমাপ্তি ঘটবে।
সম্পর্কটি যে আপনার মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সঙ্গীকে তা সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলুন। তিনি বুঝতে না চাইলেও নিজের সিদ্ধান্তে আপনি অনড় থাকুন। জীবনকে এগিয়ে নিতে আপনার অন্যের সম্মতির কোনো প্রয়োজন নেই।
এমএম