শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করলে প্রথমেই বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু একটা সময় যখন একেবারেই দুর্বল হয়ে যায় তখন আর তেমন কিছু করার থাকে না। তাই এ ব্যাপারে সর্তক হওয়া অত্যন্ত জরুরী।
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ রয়েছে। সেগুলো প্রথমেই বুঝতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়। চিকিৎসায় দেরি হলে শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে তো কমে যাবেই সেইসঙ্গে আরও কিছু সমস্যা যেমন- স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বিষণ্ণতা ইত্যাদি বেড়ে যেতে পারে।
শ্রবণশক্তি কমার সূক্ষ্ম লক্ষণসমূহ :
কানের ভেতরে কিছু আটকে আছে মনে হওয়া :
কানের ভেতরে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হলে সতর্ক হোন। যদি মনে হয় কানের ভেতরে ময়লা কিছু আটকে আছে এবং চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও কিছু যদি ধরা না পড়ে তবে বুঝতে হবে আপনার শ্রবণশক্তি কমে যাচ্ছে।
অস্পষ্ট শোনা :
যাদের কণ্ঠস্বর তুলনামূলক ক্ষীণ তাদের কথা অস্পষ্ট শোনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারী ও শিশুর কণ্ঠ স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যায় না। কারণ তাদের কণ্ঠস্বর পুরুষের তুলনায় কোমল। পাখির ডাক, মৃদু বাঁশির সুর এ ধরনের শব্দ যদি স্পষ্ট শুনতে না পান তবে সতর্ক হোন। এগুলো আপনার শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। সম্ভব হলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঠিকভাবে কথা ধরতে না পারা :
কেউ একজন হয়তো আপনার সঙ্গে কথা বলছেন কিন্তু আপনি তার কথা ঠিকভাবে ধরতে পারছেন না। শুনতে পাচ্ছেন যে কিছু একটা বলছেন, কিন্তু কী বলছেন তার সবটা বুঝে উঠতে পারছেন না। এমনটা হলে বুঝতে হবে আপনার শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করেছে। যদি একই সময়ে একাধিক ব্যক্তির কথা শুনতে বেশি সমস্যা হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বেশি মানুষের মধ্যে কথা বুঝতে অসুবিধা :
কোনো স্থানে অনেক মানুষের ভিড় থাকলে সেখানে অন্যদের কথা বুঝতে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলতে সমস্যা হলে সতর্ক হোন। এটি আপনার শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। তখন উচ্চ শব্দ শুনতেও সমস্যা হতে পারে। মানুষের কথার চেয়ে কোলাহল বেশি কানে বাজতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
সমস্যায় পড়লে যা করবেন
শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক যে কারও শ্রবণশক্তি কমে গেলে যত দ্রুত সম্ভব নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন । বাংলাদেশে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি বর্তমান।
শ্রবণে সাহায্যকারী কোষগুলো কার্যকর থাকলে কানে শোনার যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। বাইরে থেকে যন্ত্রের উপস্থিতি বোঝা যায় না, এমন যন্ত্রও রয়েছে। তবে শ্রবণতন্ত্রের অন্তঃকর্ণের স্নায়ুকোষ কার্যকর না থাকলে অস্ত্রোপচার (ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট) করার প্রয়োজন পড়ে।
এন





