রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন সালমান মুক্তাদির।

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত দশটায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে তার স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সালমান মুক্তাদির বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চাননি; চাইলে তিনি দিতেন। আবার তিনি বিএনপিকে চাঁদাবাজদের দল বলেছেন। এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের কোনো মানে নেই। সালমান মামলা করলে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর প্রতিক্রিয়ায় সালমান মুক্তাদির বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি ‘কনফিডেন্স’ পেয়েছেন। কারণ মন্ত্রী ফ্রিডম অব স্পিচ নিয়ে কথা বলেছেন। তবে তার প্রশ্ন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, সেখানে তাকে কেন মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে।

সালমান বলেন, ঘটনার রাতে তিনি অনেক মানুষ নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ভোর ৪টা পর্যন্ত ছিলেন। তার দাবি, রাতেই অভিযোগ নিয়ে থানায় যাওয়ার পরও দুপুর পর্যন্ত মামলা করা হয়নি। বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আসার পর মামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার প্রশ্ন, মামলা করতে যাওয়ার পরও কেন তা আগে নেওয়া হয়নি—এর জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই দিতে হবে।

বিএনপির প্রসঙ্গ তুলে সালমান মুক্তাদির বলেন, তিনি কেন বিএনপির কথা বলেছেন, সেটিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে। তার ভাষ্য, হামলার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র, চাপাতি ও কোদালসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের ফোনের ভিডিওও রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা বিএনপির নাম নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

সালমান বলেন, ‘আমি খুবই কনফিউজড, আপনি কি বিএনপির পিআর ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসিসের দায়িত্ব নিয়েছেন নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন?’ তার মতে, ঘটনাটি ভূমি দখল, চাঁদাবাজি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না—এসব তদন্তের বিষয়; কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সালমান আরও বলেন, তিনি তদন্তের জন্য সরকারের কাছে আসেননি, এসেছেন ‘অ্যাকশনের’ জন্য। তার দাবি, হামলার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আটক, অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ এবং ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কি ধারণা আছে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার অবস্থার কী হচ্ছে? তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি কোনো জায়গাতে কোনোভাবে কানেক্ট করতে পারেন? ডু ইউ এভার ফিল কানেক্টেড টু এনি পার্সন, এনি ডেথ, এনি লস, ডু ইউ ফিল এনিথিং?’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাকে তো থ্যাংক ইউ বলছি, আপনাকে তো বললাম আপনি এটা নিয়ে টেনশন কইরেন না, আপনি তাও টেনশন করলেন, আমি আপনাকে এটার বাইরেই রাখছিলাম, আপনি নিজে এসে ঢুকলেন, ঢুকে নিজেকে নিজে ছোট করলেন।’

সালমান মুক্তাদির বলেন, তার সরকারের কাছে টাকা-পয়সা, স্টুডিও পুনর্নির্মাণ বা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমি সালমান মুক্তাদির যথেষ্ট স্ট্রং, আমি কারো থেকে ভিক্ষা চাব না।’ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে চান না বলে তিনি সেসব উদ্যোগে সাড়া দেননি বলেও জানান।

তার ভাষ্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করছে। তিনি বলেন, তিনি চাইলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারতেন, কিন্তু তা করছেন না; কারণ তিনি বাংলাদেশের মানুষের ভরসা ভাঙতে চান না।

সালমান বলেন, ‘ইফ ইউ রিয়েলি ওয়ান্ট টু ডু সামথিং, ডু সামথিং ফর বাংলাদেশ।’ তার মতে, তার স্টুডিও পুনর্নির্মাণ বা ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ নয়, বরং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তার সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটি তিনি নিজের ক্ষতি হিসেবে মেনে নিতে পারেন। তিনি আবার টাকা উপার্জন করতে পারবেন, চাইলে স্টুডিওও বানাতে পারবেন। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টির জবাব সরকারকে দিতে হবে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনার প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে এরকম একটা কিছু হইলো, আপনি কি বুঝতেছেন যে কতটুকু ডাউন হয়ে গেল?’ তার দাবি, ঘটনাস্থল ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি।

সিসিটিভি ফুটেজ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, হামলাকারীরা ক্যামেরা ভেঙে সার্ভারসহ নিয়ে গেছে। তবে বিভিন্ন ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং হামলার অন্যান্য ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ফুটেজের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, ‘ইফ ইউ হ্যাভ এনি এলিগেশনস এগেইনস্ট মি, আই এম মোর দ্যান হ্যাপি টু ফেস দ্যাট।’

শেষে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া নেই। বরং সরকার যদি এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এস