রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এডিবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়ন প্রকল্পের’ মাধ্যমে ঋণের অর্থ বিতরণ করা হবে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর আওতাভুক্ত যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ঋণ পাবেন উপকারভোগীরা।

এই অর্থ দিয়ে পরিবারগুলো নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো বাড়ি মেরামত ও উন্নয়ন করতে পারবে।

এডিবি জানিয়েছে, অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবার প্রচলিত আবাসন ঋণের সুবিধা পায় না। ফলে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থানের পাশাপাশি আবাসন অর্থায়নে তাদের প্রবেশাধিকারও সীমিত। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী ঋণগ্রহীতা থাকবেন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতাকে প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এডিবির বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, নিরাপদ আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল ঘরে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে দারিদ্র্য কমানো ও মানব উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকল্পে শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। আবাসন ও ভূমি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে দুর্যোগঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম এমন নকশা ও নির্মাণব্যবস্থাকে প্রকল্পের অর্থায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নারীদের আবাসন নিরাপত্তা জোরদার করতেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের স্বামী বা স্ত্রীর বসবাসের ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া দেশব্যাপী আবাসন ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রম সম্প্রসারণে পিকেএসএফ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল প্রতিবেদন ব্যবস্থার উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হবে।

এডিবির অনুমোদিত ১০ কোটি ডলারের মধ্যে ৪ কোটি ডলার জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন থেকে আসবে। পাশাপাশি প্রকল্পের কারিগরি সহায়তার জন্য আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এস