শনিবার (৩ অক্টোবর) মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)’ প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ১৬টি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত সংবাদ ও নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৪ জনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২ জন, বিএনপির ১ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ১ জন রয়েছেন। সহিংসতার সিংহভাগই ঘটেছে দলীয় ও অন্তর্কোন্দল, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের পৃথক হামলায় আরও ৭ জন রাজনৈতিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
চলতি মাসে সারাদেশে বিভিন্ন অভিযানে মোট ২১,২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১,৬৬৫ জন, বিএনপির ৬২ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৩১ জন এবং এনসিপির ১ জন নেতাকর্মী রয়েছেন।
মব জাস্টিস, কারাবন্দীর মৃত্যু ও সাংবাদিক নির্যাতন
মব সহিংসতা: চোর-ডাকাত সন্দেহ, বাকবিতণ্ডা ও ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনির ৩৫টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু: সেপ্টেম্বরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২১ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে মারা গেছেন ৩ জন।
সাংবাদিক হয়রানি: অন্তত ২০টি ঘটনায় ৩৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আহত হয়েছেন ১৬ জন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ জন।
নারী, শিশু ও শ্রমিক নির্যাতন
সেপ্টেম্বর মাসে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৯টি, যার ৬০ শতাংশই (৪৭ জন) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। অন্যদিকে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ও নির্যাতনে ৮৮টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
নদীর পাড় ও পরিত্যক্ত স্থানে লাশের মিছিল
সংস্থাটি জানায়, মাসজুড়ে দেশের নদী, খাল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া ৬৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বস্তাবন্দী এবং ২৪টি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার ও হয়রানি এবং মব সহিংসতার ঘটনা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।"
এমএম











