রোববার (১২ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সভায় মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা গ্রুপকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো আইনবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের পুনরায় নির্বাচনে নিযুক্ত করার পরিবর্তে নতুন ব্যাচদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ২৮টি ব্যাচে তিনদিনব্যাপী সারা দেশে ১৩০টি ভেন্যুতে চলবে। ইতোমধ্যে দুটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ চলমান।

তিনি আরও বলেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য ‘প্রাক নির্বাচনী প্রশিক্ষণ’ চলবে। ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রের জন্য ৫ লাখ ৮৫ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার অস্ত্রসহ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার নিরস্ত্র। এছাড়া ৩,১৫৭ জন রিক্রুট সিপাহীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিজিবি ১,১০০ প্লাটুনে ৩৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র বাহক নয়, মাদকের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এনএইচ