প্রতিদিন ভোরে সূর্যের সোনালি আলো যখন শহীদ বরকত মিলনায়তনের পাশের শিউলিতলার কুয়াশা ভেদ করে, তখন মনে হয় প্রকৃতি তার ঘুম ভাঙছে। ঘাসের উপর জমে থাকা মুক্তোর মতো শিশিরকণা আর পাখিদের ডানায় ঝুলে থাকা পানি মিলে তৈরি করে এক অনুপম দৃশ্য। মিলনায়তনের সামনে শিউলির গন্ধে মিশে থাকা শীতের হিমেল পরিবেশ যেন সময়কে এক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দেয়।

দুপুরের দিকে রোদের আলতো তাপে যখন কুয়াশা মিলিয়ে যায়, তখন পুষ্পকানন চত্বর হয়ে ওঠে কিছুটা প্রাণবন্ত। বন্ধুরা গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ গিটারের সুর তুলছে, আবার কেউ পিঠার স্বাদে খুঁজে নিচ্ছে শীতের আনন্দ। আশপাশে ভেসে বেড়ানো লালনের গান কিংবা সুরেলা হাসির শব্দ ক্যাম্পাসকে এক অন্যরকম আনন্দের রূপ দেয়।

সন্ধ্যার নরম আলোতে তিতুমীর যেন আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। প্রধান ফটকের সামনে ব্যাডমিন্টনের খেলা, আর লালনগীতির মৃদু সুরে এক গ্রামীণ সৌন্দর্যের ছোঁয়া পাওয়া যায়। তিতুমীরের শীত শুধু ঠান্ডা নয়, এটি বন্ধুদের হাসি, চায়ের কাপে ভাপ ওঠা ধোঁয়া আর আড্ডার উষ্ণতায় ভরা এক পরিপূর্ণ উৎসব।

রাতে, যখন পুরো ক্যাম্পাস ঢেকে যায় এক নির্জন শান্তিতে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি তার সমস্ত জাদু মেলে ধরে। শীতের রাতের আকাশে জ্বলজ্বল করা তারার আলো, পাখিদের মৃদু ডাক আর শীতল হাওয়ার স্পর্শে তিতুমীর হয়ে ওঠে রূপকথার এক রাজ্য।

এই শীত শুধু প্রকৃতির উৎসব নয়, এটি তিতুমীর ক্যাম্পাসের আত্মার সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকা এক আবেগ। কুয়াশায় মোড়া সকাল, পিঠা আর আড্ডায় ভরা দুপুর আর সুরেলা সন্ধ্যার প্রতিটি মুহূর্ত যেন লেখে এক অনন্য কবিতা। এই কবিতার প্রতিটি শব্দ বলে যায়, তিতুমীরের শীত প্রকৃতির আঁকা এক অমর চিত্রপট।

এনএইচ