নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপনির্বাচনের ১৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি ছাড়া বাকি ১১০টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) রিপোর্ট দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আগামী ২৬ জুন এ আসনে উপনির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে ১১০টি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে সেসব ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এ ভোট কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর্দের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

পাশাপাশি বহিরাগত কোন সন্ত্রাসী ভোটগ্রহণের আগের দিন ও ভোটের গ্রহণের দিন নারায়ণগঞ্জ অবস্থান করতে না পারে সেজন্য নির্দেশনা হয়েছে। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নারায়নগঞ্জ- ৫ আসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে।

একইসাথে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোকেও বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা টিম থাকছে। কোন সহিংসতা হলে তাৎক্ষনিক তা মোকাবেলা করার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব-বিজিবির মোবাইল ফোর্স রাখা হবে। এছাড়া ১০জন নির্বাহী ও ২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট এ নির্বাচনী এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার মিহির সারওয়ার মোর্শেদ সাংবাদিকদের জানান, নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্রগুলোর তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে।

আর এ তালিকাগুলো নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রদখল, জালভোট দেয়াসহ কোন রকম অনিয়ম করলে তাৎক্ষনিক শাস্তি দেবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া ভোট কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুল মোবারক বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচনে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন, জাতীয় পার্টির একেএম সেলিম ওসমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম, মোহাম্মদ মামুন সিরাজুল মজিদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ ওয়ার্ড, ৪টি আংশিক ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৪ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪১টি এবং আর ভাটার কক্ষ ৬৭৪টি।

উল্লেখ্য,  জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপনির্বাচনের তফসিল গত ১৯ মে সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন।ৱ

তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ মে, যাচাই বছাই ১ জুন, প্রত্যাহারে শেষ দিন ৯ জুন ও ভোটগ্রহণ ২৬ জুন নির্ধারণ করা হয়।

গত ১ মে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম নাসিম ওসমান ইন্তেকাল করেন। ভারতের দেরাদুনের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। এর আগে গত ৬ মে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। বিধি অনুসারে কোনো আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাসিম ওসমান ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবা এ কে এম সামসুজ্জোহা ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে একই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

ঢাকা, এএম, ২২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর