বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেলের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে গ্রামের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার ঋণ করেছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ।
গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এতে গ্রামীণ, শহরাঞ্চল ও সিটি করপোরেশন এলাকার মোট তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ১৫০টি নমুনা এলাকা থেকে ট্যাবলেট ডিভাইস ও ডিজিটাল কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আয়ের চেয়ে বেশি পরিবারের মাসিক ব্যয়
জরিপে দেখা গেছে, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি মাসে আয়ের চেয়ে ১ হাজার ৭৯৮ টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে।
অঞ্চলভেদে পরিবারের মাসিক ব্যয়েও বড় পার্থক্য রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে এ ব্যয় ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।
জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য এবং বাকি অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে অঞ্চলভেদে এ চিত্র আলাদা। গ্রামীণ পরিবারগুলো খাদ্যের পেছনে তুলনামূলক বেশি ব্যয় করে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয়ের চাপ বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট মাসিক ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই যায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে।
মূল্যস্ফীতির চাপে জীবনযাত্রা
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, জরিপের ফলাফল মহামারির পর থেকে বাংলাদেশের দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল।
বিবিএসের ‘মজুরি হার সূচক’ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৬৩টি পেশায় কর্মরত স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরির হিসাবের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়।
দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কা
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্বলতা মানুষের জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি ও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান, ঋণনির্ভরতা এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।
এস











