আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য, ছবি ও মতামত ছড়ানো হচ্ছে। এতে ব্যক্তি হয়রানি ও চরিত্রহননের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, এআই ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর গুজব ও অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও শিল্পীদের মতো পরিচিত ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, ‘সাইবার স্কোয়াড’ নামে কয়েকটি গোষ্ঠীকে তারা শনাক্ত করেছেন। এসব গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআইনির্ভর কনটেন্ট ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাইবার নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে এআইয়ের অপব্যবহার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন তারা।

এআই বর্তমানে লেখা, ছবি ও ভিডিও তৈরি থেকে শুরু করে তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে। অ্যানথ্রপিক ও গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

চলতি মাসের শুরুতে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোস্কিও এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও বিস্তার নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও পুলিশের রেঞ্জ সদর দপ্তরগুলোতে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ভিয়েনায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন। অনলাইন জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি এবং সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বিনষ্টের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও সময়োপযোগী আইন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাইবার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা ও সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

এস