বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, আগে চুক্তি হওয়া একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় এ দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।

বিপিডির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র এবং মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী, মৌলভীবাজার সদর এবং নোয়াখালীর সুধারামে আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্পের সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে।

বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

বেসরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করছে। প্রকল্প তিনটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ ধরনের ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান জানান, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য উৎস থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদীর মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাড়ানো গেলে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমানো সম্ভব। সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনও কমবে।

এস