প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে হামলা হলে তা ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কেন্দ্রও রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি বড় ধরনের অভিযান হবে।’ সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেবেন কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কবে তিনি সেই নির্দেশ দেবেন। তাঁদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই অভিযান শুরুর নির্দেশ আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ সম্ভাবনা বেশি।

পাল্টা হামলার আশঙ্কা

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি জানে। ফলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি করছে।

ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিনি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছেন। যদিও অতীতেও তাঁকে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে সরে আসতে দেখা গেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনার পাশাপাশি বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে হামলার পরিকল্পনাও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দূতাবাসগুলোতেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক কর্মীর মোতায়েনও স্থগিত করা হয়েছে।

এস