শুক্রবার (২ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইকিউএয়ারের তালিকায় ২৩৬ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ১৭৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে বাহরাইনের মানামা এবং একই স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। ১৭৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।

এর পরেই রয়েছে ঢাকা। রাজধানীর বায়ুমানের স্কোর ১৬৩ হওয়ায় এদিনের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়।

বাংলাদেশে বায়ুমানের সূচক নির্ধারণে দূষণের পাঁচটি প্রধান উপাদান বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।

ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব উৎসের কথা উল্লেখ করা হয়।

বায়ুদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নানা ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

এস