কিশোরগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ভয়ে অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

শহরের নিউটাউন এলাকার রওশনারার মৃত্যুর পর সে তালিকায় যোগ হয়েছে ৫ মাসের শিশু আল-আমিন ও সদর উপজেলার বিন্নটি গ্রামের ফজলুর রহমানের (৩২) নাম।

শনিবার রাতে শিশু আল-আমিন ও রোববার সকালে ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলার বাইরে থেকেও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসায় পরিস্থিতি আরো প্রকট হয়েছে। রোগীর ভিড় সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। প্রতিদিন ২৫-৩০ জন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

এদিকে হাসপাতালে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে তারা চাহিদা মতো সেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন না। শুধুমাত্র খাবার স্যালাইন ছাড়া আর সব ওষুধ ও স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

শহরের সতাল এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী রোগী রেনুফা (২৭), নিউটাউনের অসিত পাল (৩৫) জানান, গত ৯ দিন ধরে পৌর এলাকার নিউটাউন, সতাল ও বোয়ালার বাসিন্দারা সাপ্লাইয়ের ময়লাযুক্ত ও দূষিত পানি পান করছেন। ফলে সেখানকার মানুষ প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

তারা আরো জানান, ভালো চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু অভিজ্ঞ ডাক্তার না এসে নার্স ও ইন্টার্নি ডাক্তার দিয়ে কর্তৃপক্ষ দিনে একবার রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ও অন্যান্য উপজেলা থেকে আসা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের অপরিচ্ছিন্ন পরিবেশ, অপ্রতুল শয্যা, চিকিৎসা সেবার মান, ওষুধ সংকট, ডাক্তার-নার্স ও আয়াদের খামখেয়ালিপনা এবং হয়রানির কারণে অনেক রোগীই হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগের ইনচার্জ শাহনাজ পারভিন জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। সে তুলনায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সিটও সীমিত। আর আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ইনজেকশন সিপটিয়াজম ১, ২ গ্রাম ও ৫০০ মিলির ট্রাকসন ১, ২ গ্রাম ও ৫০০ মিলিগ্রাম সিপ্লিও এবং স্যালাইনের সংকট রয়েছে। তাই সব সামলিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে।

কর্তব্যরত ডাক্তাররা বলছেন, দূষিত পানি পান করার কারণেই ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে শহরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও সাপ্লাইয়ের পানির লাইনের সমস্যা সমাধানে এখনো পৌর কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।

কিশোরগঞ্জ পৌর সভার মেয়র কাঞ্চন ভূঁঞা ও সহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জেলা পরিষদ সংলগ্ন ট্যাংকটির সাপ্লাই লাইন ফুটো হয়ে যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফুটো হওয়া লাইনটি দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তারা জানান।

কর্তব্যরত ডাক্তারের অবহেলার কারণে ডায়রিয়া রোগীর মৃত্যু হচ্ছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তবে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

সিভিল সার্জন ডা. মৃণাল কান্তি পন্ডিত রোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ রয়েছে এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি দোতলায় স্থানান্তর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ