ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোকে কাজ দেয়াটাই ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিআরইউ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নসরুল হামিদ বলেন, নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এখন বাংলাদেশ চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক আদালতে (ইকসিড) করা নাইকোর মামলার পুনঃশুনানির জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামী ২-৬ নভেম্বর লন্ডনে এই পুনঃশুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নাইকোর অবস্থা ভালো না। বিগত সরকার (বিএনপি জোট) নাইকোকে কাজ দিয়েছে। নাইকোকে এই গ্যাস ফিল্ডের (টেংরাটিলা) কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল।

তিনি আরো বলেন, নাইকো আমাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিল ইকসিডে। গত বছর একটি মামলার রায়ে নাইকোর আটকে রাখা ২৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে বলেছে আদালত। তবে আমরা নষ্ট হওয়া গ্যাসের মূল্যবাবদ নাইকোর কাছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার চাই।

বিগত সময়ে নাইকোর মামলা যারা পরিচালনা করছিলেন- গাফিলতির কারণে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মামলা পরিচালনায় আরো ভালো এক্সপার্ট নিচ্ছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইনজীবীকে হায়ার করেছি।

উল্লেখ্য, ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর ক্ষতিপূরণ দাবিতে স্থানীয় আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা। এ ছাড়া আদলতের নির্দেশনা অনুসারে নাইকোর অন্য গ্যাসক্ষেত্র ফেনী থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার আটকে রাখা ওই অর্থ আদায়ে ও ক্ষতিপূরণ না দিতে ইকসিডে দুটি মামলা দায়ের করে নাইকো। আন্তর্জাতিক আদালত গত বছর নাইকোর গ্যাসের দাম পরিশোধের মামলার রায় দেয়। এদিকে নাইকো টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের জন্য নিরাপত্তা জামানত হিসেবে রাখা অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছে।

স্থলভাগের ৯ নম্বর ব্লকে (কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে গঠিত) তাদের যে শেয়ার রয়েছে, তাও বিক্রি করছে। সব মিলিয়ে নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে ওই মামলার শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

জ্বালানি তেলের দাম কমবে না মান বাড়বে

এই অনুষ্ঠানে জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে এর মান বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। তিনি বলেছেন, তেলের মান ও তেলের দাম এ দুটিকে সমন্বয় করা হবে।

এ নিয়ে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সাথে আলোচনা করবেন তিনি।

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কম হওয়া সত্ত্বেও সরকার কেন দাম কমাচ্ছে না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, বিশ্ববাজারের তেলের দামের সাথে এ দেশে মূল্য সমন্বয় করা হয়নি।

কারণ তেলের এই জায়গা থেকে সরকারের কিছুটা হলেও অর্থ দরকার। সরকারের পরিকল্পনা এখন তেলের মানটাকে নিয়ে। পেট্রোলের মান এমএস ৮০ গ্রেডের। খুব নিম্নমানের পেট্রোল।

আর অকটেন ৯০ গ্রেডের। এই মানটাকে বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, তেলের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাংলাদেশে কমে আসছে। আমদানির পরিমাণও কমে আসছে। কারণ এখানে সিএনজি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সবাইকে নিয়ে রামপাল যাব

সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন আগামী মাসে আমি একটু সময় করব তাদের নিয়ে রামপাল যাওয়ার। সবাইকে নিয়ে যাব। সাংবাদিকদের নিয়ে গেলাম। অনেকে তো জায়গাই দেখেন নাই।

ঢাকায় বসে আন্দোলন করছেন। চলুন আমরা সবাই একসাথে যাই। সুন্দরবন সেখান থেকে কত দূরে আছে। ওখানে নেমে গিয়ে দেখি, আমরা ফিল করি, কতটুকু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞের মতামত না-ই বা দিলাম, অন্তত দেখলাম।

পশুর নদীতে ঘুরলাম, একটু দেখলাম সেখান থেকে রামপাল কত দূরে। আমাদের হয়তো যোগাযোগের অভাব ছিল। এর কারণে অনেক তথ্য হয় তো জানা হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য, সৌর বিদ্যুৎ, বায়ুশক্তিসহ শক্তির সব উৎসকে ব্যবহার করতে চায়। তবে কয়লাকে ভিত্তি শক্তি হিসেবে রাখতে চায়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের পরিচালনায় মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা।

এসএইচ