আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জামালপুরে জমে উঠেছে গরুর হাট।

প্রতিবারের মত এবারও জামালপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজার, পৌর শহরের বাগেরহাটা, কেন্দুয়া কালিবাড়ী, হাজিপুর, গাজিপুর, মেলান্দহ, বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে শতাধিক গরুর বাজার বসানো হয়েছে।

হাট ইজারাদারের পক্ষ থেকে গত ১০ দিন আগে থেকেই ‘বিরাট গরু ছাগলের হাট’ সংক্রান্ত পোস্টার জেলার নানাস্থানে সাঁটানো হয়ে। ইজারাদারদের মাধ্যমে পশু ক্রয়-বিক্রয়কারীদের থাকা খাওয়া, নিরাপত্তা প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে মাইকিং, পোস্টার ও লিফলেটে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে পছন্দের পশুটি কিনতে ক্রেতারা ছুটছেন বিভিন্ন হাটগুলোতে।

গ্রাম পর্যায়ে সাধারণত কাঁচা সবুজ ঘাস, খড়, খৈল, ভুসি ইত্যাদি খাইয়ে বড় করা গরু-ছাগলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কৃষক পর্যায়ের এসব গরু ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে অধিকসংখ্যক। জেলার পশুর হাট-বাজারগুলোতে ভারতীয় গরুর আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয় খুব কম।

গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে পাইকাররা ট্রাকে করে গরু রাজধানী ঢাকা, ভৈরব, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের নানাস্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত এ সব গরু ক্রয়-বিক্রয় হবে বলে পাইকাররা জানান।

বর্তমানে কোরবানির হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পৌর শহরের বাগেরহাটায় মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি এই হাট থেকে ৩৫ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কিনেছি। শুনেছি হরমোন, রোগাক্রান্ত ও মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস খেলে নাকি ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মোটাতাজা গরু আমার পছন্দ না।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ কর্মকর্তা ডাক্তার আজগর আলী জানান, সারা জেলায় আমাদের তালিকাভুক্ত ২৮টি বড় ধরনের গরুর হাট রয়েছে। এ সব হাটে চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে মোট ১৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় গ্রামপুলিশের পাশাপাশি আমাদের পুলিশ প্রশাসনের লোকজনও দায়িত্ব পালন করছেন।’

জেআই