রাজধানীর পুরান ঢাকার ইসলামপুর এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) যন্ত্র মেরামত করার সময় বিস্ফোরণে আলামিন (২০) ও আশিকুর রহমান (২১) নামের দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ইসলামপুরের লায়ন টাওয়ারে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ওই সময় তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হলে গতকাল রাত ১১টার দিকে আশিকুর ও আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আলামিনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া দগ্ধ আরেক শ্রমিক আরিফুল ইসলাম (২০) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় দগ্ধ তিনজনকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধ আরিফুল ইসলাম জানান, ইসলামপুরে লায়ন টাওয়ারের ১২তলায় পুরাতন এসি মেরামত করছিলেন তাঁরা। গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে এসির একটি পাইপ ঝালাই দিচ্ছিলেন। তখন এসি থেকেই বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা তিনজন দগ্ধ হন। এর মধ্যে আলামিন ও আশিকুর গুরুতর আহত হন। আরিফুলের ধারণা, এসির ওই পাইপের ভেতর গ্যাস জমে ছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে।
দগ্ধ আরিফুল আরো জানান, তাঁরা কেরানীগঞ্জের আলীপুর এলাকায় থাকেন। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি এসি মেরামত কোম্পানিতে কাজ করেন তাঁরা। ২০ থেকে ২২ দিন ধরে এ কাজ করছেন আরিফুল। কাজের প্রথম দিন থেকেই তিনি পুরান ঢাকার ইসলামপুরের লায়ন টাওয়ারে কাজ করছিলেন। ওই টাওয়ারটি পুরোনো। তাদের কোম্পানি থেকেই ১২তলা ভবনের সব পুরোনো এসি মেরামতের চুক্তি নেন তাঁরা। আশিকুর ও আলামিন আগে থেকেই সেখানে কাজ করছিলেন।
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক হারুন গতকাল জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণে আশিকুরের শরীরের ৪০ শতাংশ ও আলামিনের ১২ শতাংশ দগ্ধ হয়। এ ছাড়া বিস্ফোরণে আশিকুরের মুখে বড় ধরনের আঘাত লেগেছিল। আলামিনের শরীরেও আঘাত ছিল। আর আরিফুলের ১৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এমআর





