পদ্মায় প্রবল স্রোত ও শনিবার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়া ঘাটের একটি পন্টুন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩টি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে করে উভয় ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এখন নদী পারাপারে সময় লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি। নাড়ির টানে ঈদে ঘরমুখো দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

রোববার সকাল থেকে ঘাট এলাকায় ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা পরিবহনের পাশাপাশি প্রাইভেট কারের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। এতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনাগামী প্রাইভেট কারের চালক রাকিব হাসান বলেন, রাত ৩টা থেকে অপেক্ষা করছি। তবে এখন পর্যন্ত ফেরিঘাটের দেখা পাইনি। কখন ফেরিতে উঠব সেটাই ভাবছি।

বেনাপোলগামী নোয়া-বক্কছীর যাত্রী মারিয়া মরিয়ম বলেন, আমি ঘাট এলাকায় পৌঁছেছি প্রায় ৫ ঘণ্টা। এখন পর্যন্ত আমাদের গাড়ি ১০০ গজ এগোতে পারেনি। তবুও ভালো লাগছে গ্রামে গিয়ে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দটাকে ভাগাভাগি করতে পারব।

হানিফ পরিবহনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক অভিযোগ করে বলেন, ফেরি চলাচলে সময় লাগছে, এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এটা হতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিইটিসি) কিছু দালাল সিরিয়াল অভারটেক করে ভিআইপি সুবিধা দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য গাড়ি পারাপার করছে। এতে ঘাট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়ায় পারাপারের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক গাড়ি নদী পাড়ে অপেক্ষা করছে। এ নৌরুটে ১৮টি ফেরির মধ্যে ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপারের কাজ করা হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়ায় ৪টি পন্টুনের মধ্যে আবারো একটি পন্টুন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে একটু যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক শেখ মুহাম্মদ নাসিম চৌধুরী জানান, চালকদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। মূলত: প্রবল স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দৌলতিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিন নম্বর ঘাটটি শনিবার সন্ধ্যা থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যানজট আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ১৮টি ফেরির মধ্যে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে ৮টি রো রো, ৩টি কে-টাইপ ও ৫টি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করছে। এছাড়া মেরামতে রয়েছে একটি কে-টাইপ ও একটি ইউটিলিটি ফেরি।

এম এ