আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। সমঝোতা চূড়ান্ত হলে স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পাবেন দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ। তবে তিনি সরাসরি স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবেন না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি ব্যয় এবং ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনকাজে অর্থায়নের জন্য স্বর্ণ জামানত রেখে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে স্বর্ণের ব্যবহার তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় রাখা হবে।
আলোচনায় যুক্ত এক বিরোধী নেতা বলেন, ‘স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, কিন্তু দেলসি সরাসরি এর নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। এটি তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।’
প্রায় ৩১ টন স্বর্ণের এই মজুত নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর বিরোধীরা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। বিষয়টি পরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
তবে বর্তমান সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চুক্তির বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তি করতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তরের আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত হয়েছে। কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে চলমান আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লন্ডনে যুক্তরাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘সুসংবাদ’ আসছে বলে মন্তব্য করেন।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ স্থানান্তরসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে না তারা। স্বর্ণের হিসাবের ওপর কার আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।
এদিকে সরকার ও বিরোধী পক্ষের চলমান আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও বিরোধী পক্ষ স্বাধীনভাবে যাচাই করা ভোটের হিসাব তুলে ধরে তার পরাজয়ের দাবি করেছিল।
জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনঃসম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে। এরপর দেশটির ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং এপ্রিল মাসে সাত বছর পর আইএমএফ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর মধ্যেই স্বর্ণের মজুত ব্যবহার করে সরকারি ব্যয় ও পুনর্গঠনে অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
এস





