আগামীকাল মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, সামাজিক সহিংসতা ও বৈষম্যের মতো সমস্যা এখনো শিশুদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। কেউ হয়ে উঠবে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, অভিভাবক কিংবা দেশের নেতৃত্বদাতা। তাই শিশুদের ভালোবাসা, যত্ন ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

তারেক রহমান আরও বলেন, শিশুদের নির্মল হাসি একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্তব্যও।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিশুদের জন্য জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আইএলওর আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ক্রীড়া, শিল্প ও সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বপরিসরে এগিয়ে নেবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীকে নতুন স্বপ্ন ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিশুদের প্রতিভা ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ।

শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন তিনি।

এস