বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তিনি জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের ভোট আয়োজন করা হলে ভোটের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে; কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি।

ইসি মাছউদ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পাবলিক পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে বছরের শুরুতে ইউপি নির্বাচন শুরু করার কথা ভাবা হচ্ছে।

তার ভাষ্য, ইউপি নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

রমজানের আগে কয়েকটি ধাপে ভোট আয়োজনের পাশাপাশি রমজানের পর আবার নির্বাচন শুরু করে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউপি নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে রমজানের পরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকায় তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ধাপের সময় নির্ধারণ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধরে নিয়েই প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান মাছউদ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে মোতায়েনের প্রয়োজন দেখছে না কমিশন।

তবে ভোটের পরিবেশ পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন মনে হলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

ইসি মাছউদ বলেন, ইউপি নির্বাচন এলাকাভিত্তিক ও সংখ্যাভিত্তিক কয়েকটি স্লটে আয়োজন করা হবে। গোলযোগ, মারামারি, হানাহানি ও অন্যান্য অনিয়ম কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা শেষ হলে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে ইসি। মামলাগুলো নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনের আওতাভুক্ত ইউপির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

ইউপি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের।

এদিকে ইউপি নির্বাচনের জন্য সংশোধিত আচরণবিধি ইতোমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে ইসি। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীদের ভোটসংখ্যা সমান হলে তাদের মধ্যে পুনঃভোট আয়োজনের বিধানও রাখা হয়েছে।

তবে জানুয়ারিতে ইউপি নির্বাচন শুরু এবং রমজানের আগে দুই হাজার ভোট সম্পন্ন করার বিষয়টি এখনো ইসির পরিকল্পনা, চূড়ান্ত তফসিল বা সিদ্ধান্ত নয়।

এস