বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে দেশের ব্রডকাস্ট সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে দুঃসময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে থাকার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদও জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ওপর অতীতে নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের পাশে ছিলাম এবং সবসময় আছি।’ একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতন্ত্রচর্চা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দীর্ঘ সংগ্রামের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ক্ষুদ্র ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সম্প্রচারের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে গণমাধ্যমের সমস্যাগুলো বিবেচনা ও সমাধানের পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি।

একই সঙ্গে ডিজিটালাইজেশন ও স্বনির্ভরতার মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে টেকসই করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বিজেসির নেতারা সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তারা জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসহায়তা, বীমাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

রাষ্ট্রপতি এসব উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের আয়বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শও দেন।

সাক্ষাৎকালে বিজেসি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ফাহিম আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, তালাত মামুন, মাহমুদ হাসান, শরিফুল ইসলাম খান, শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, জামানুল ফেরদৌস মানু, বেলায়েত হোসেন, নায়লা পারভীন পিয়া ও সাইফুল শাকিল উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব ও সহকারী সামরিক সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

এস