বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ন্যাশনাল-লেভেল কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) সামিট-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘আমরা একটি ব্যারেজ তৈরি করব, যেখানে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুমে খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে পানির সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করা যায়। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদী, খাল ও জলাশয়ে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আর এর অংশ হিসেবে পানি সংরক্ষণ, খাল পুনঃখনন এবং প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।

সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচনে পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেছে সরকার। পাশাপাশি ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।’

জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের অন্যতম। তাই জলবায়ু অর্থায়ন ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক হওয়া উচিত। জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী দেশগুলোকেই এ দায়ভার বহন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে অক্সফামের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহমুদ সুলতানা সামিটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, জেন্ডার সমতা এবং প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দুই দিনব্যাপী এ সামিটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কমিউনিটি-ভিত্তিক সংগঠন (সিবিও) ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই পরিবেশ গঠনে স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এমএম