নারায়নগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ৭ হত্যার মূল আসামী নূর হোসেনের আলোচিত বান্ধবী জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি নূরের চোখে সুন্দরী ; আর এটাই আমার অপরাধ। এ জন্য আমার জীবন এখন অভিশপ্ত।"
তিনি বলেন, নূর হোসেনের কুনজরে পড়ে সর্ব শান্ত আমি। এলাকার প্রায় সবাই আমাকে নূরের স্ত্রী হিসেবে জানলেও আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক-অধিকার নেই। স্বামীর জীবন রক্ষা ও সন্তান যেন বাবা হারা না হয়; সেজন্য জীবনের বিনিময়ে ‘সূক্ষ্ম’ চাতুরী করতে হয়েছে দীর্ঘদিন।
শেরাটন হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাতযাপন এবং একই সঙ্গে ভারত সফর প্রসঙ্গে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নীলা আরও বলেন, তখন আমার মেয়ের বয়স (অফিয়া জাহান সুমাইতা) ৫ বছর। তাকে দার্জিলিংয়ের একটি স্কুলে ভর্তির প্রয়োজনে ভারত যাওয়া হয়। ভর্তির সময় নূর হোসেন আমার সন্তানের অভিভাবক হিসেবে স্বাক্ষরও করেন। তবে তার আরেক বন্ধুর ফ্যামিলির সঙ্গে যাওয়ার কারণে পাশাপাশি রুমে থাকলেও কোনো অঘটন ঘটেনি।
নীলা বলেন, আর হোটেল শেরাটনে রাতে থাকলেও আলাদা ছিলাম দুজন। আমি খাটে ঘুমিয়েছি আর নূর হোসেন সোফায়। কারণ জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে মদ খেয়ে ওই রাতে মাতাল ছিল নূর হোসেন।
বিয়ে না করেও গোপনে কোনো স্থানে এক সঙ্গে যাওয়া-থাকা উচিত হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নীলা বলেন, “নূর কথা দিয়েছিল সে শুধু আমাকে দেখবে; কিছু চাইবে না। সত্য বলতে কী আমার মতো মেয়ে নূর হোসেনের মতো লোককে পছন্দ করার মতো কিছু নেই। ৫৪ বছর বয়সের পুরুষকে ২৭ বছরের মেয়ের পছন্দ করার কথা নয়। আর নূরের অর্থবিত্তের প্রতিও লোভ ছিল না আমার। এ ছাড়া এলাকার সম্পর্কে নূর হোসেনকে ‘চাচা’ ডাকতাম আমি।”
নীলা জানান, “আমাকে পেতে নূর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে থাকে। আমার মন জয় করতে কাজে অকাজে বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। সময় অসময়ে শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডের নূরের কাউন্সিলর অফিসে ডেকে পাঠাতেন। কাজের অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে আজগুবি গল্প করতেন।
"একদিন বলেই বসলেন, নীলা আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি; এটা বোঝ না। তুমি চাইলে তোমাকে আলাদা বাড়ি গাড়ি দিয়ে‘রাজার হালে’ রাখতে পারি। তুমি কখন আসতে চাও বলো। নূর হোসেনের এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে বলি- আপনি আমার চাচা। বয়সের পার্থক্য দ্বিগুণ। এ ছাড়া স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার আছে আমার। কী প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক করব। প্রতিবাদের পর আমি নূরের ফোন ধরা বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসি। বাইরে বেরুনো একদম বন্ধ করে দেই। এ সময় নূর তার সহযোগী আরিফুল হক হাসান ও শাহজাহানকে বাড়িতে পাঠায়। একবারের জন্য হলেও নূর হোসেনের ফোন ধরতে বলেন। এ সময় নূর হোসেন ফোন করে বলেন, নীলা তুমি আমার সম্পর্কে জানো। যা বলি তার চেয়েও বেশি করি। আমার কথা না শুনলে এবং কাছে না এলে বড় বিপদ হবে তোমার। তুমি স্বামীকে আর তোমার সন্তান হারাবে বাবাকে। এখন ভেবে সিদ্ধান্ত নাও তোমার স্বামী সন্তানের ভবিষ্যৎ কোনদিকে দেবে।”
নীলা জানান, এসব ঘটনার মধ্যেই নূর তার সাঙ্গোপাঙ্গদের দিয়ে এলাকায় নানা অপপ্রচার ছড়াতে থাকে। এক সময় এলাকার মানুষের মুখে মুখে রটে যায় নূর হোসেন নীলাকে গোপনে বিয়ে করেছে এমন গুজব। বিষয়টি আমাকে বড় দুশ্চিন্তায় ফেলে। স্বামীসহ পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করি। কিন্তু ইতিপূর্বেই নূরের ঘোষণা দেয়া ‘স্ত্রী পরিচয়’-এর কারণে আমাকে আপনজনরাও অবিশ্বাস করতে থাকে। আমার বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো নানা ধরনের যন্ত্রণা দেয়। আমাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে। এরপর আমি আবারও নূরের বিভিন্ন প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করি। এবার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে নূর হোসেন।
নীলার অভিযোগ, একদিন ফোনে নূর বলেন, ৩ দিনের মধ্যে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে হবে। নইলে তোমার প্রিয় সন্তানের মুখ থেকে আজীবনের জন্য বাবা ডাক বন্ধ হয়ে যাবে। নিরুপায় হয়ে আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পরক্ষণেই চিন্তা করি নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ নূর হোসেনের নির্যাতনের শিকার। মানসিক-শারীরিকভাবে অনেকেই পঙ্গু। বিচার চাইতে গিয়ে হামলা-মামলায় এলাকা ছাড়া। আমি বিচার চাইতে গেলে পরিণাম হয়তো আরও ভয়াবহ হবে। কারণ থানা পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ ক্ষমতাধররাও নূর হোসেনের কেনা ‘গোলাম’। এ জন্য কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি না করে বরং মেয়ে যেন বাবাহারা না হয় – সেদিক বিবেচনায় নিয়ে সাজানো গোছানো সুখের সংসার তছনছ করি। স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনি।
নীলা আরও দাবি করেন, এর পরও আমি নূর হোসেনকে বিয়ে করিনি। তবে ইচ্ছার বাইরে নূরের সঙ্গে কথা বলেছি, দেখা করেছি। বিভিন্ন সময় নানা ধরনের জিনিসপত্র কিনে বাসায় পাঠিয়েছে নূর হোসেন। একদিন হঠাৎ করেই ৩২ লাখ টাকা দিয়ে একটি এলিয়ন গাড়ি কিনে ড্রাইভারসহ বাসায় পাঠিয়েছে। যদিও তা ফেরত পাঠিয়েছি। এ ছাড়া আমার নামের জমিতে বাড়ি তৈরির সময় কিছু ইট-সিমেন্ট-রড কিনে দিয়েছে নূর হোসেন। আর যতটুকু দিয়েছে তার চেয়ে বেশি ঢাকঢোল পিটিয়েছে। যাতে সবাই সত্যি মনে করে যে, আমি তার স্ত্রী।
নীলা আক্ষেপ করে বলেন, এখন এলাকার ছেলে বুড়োসহ কাউকেই আর বিশ্বাস করানো যাবে না আমি তার স্ত্রী নই। অথচ সিটি করপোরেশনের ১ কোটি টাকা দরের এক ঠিকাদারি কাজ এবং ২ কোটি টাকা মূল্যের সয়াবিন মিল ও তেলের গোডাউন বিক্রির কমিশন বাবদ আমার পাওনা ছিল ৩৫ লাখ টাকা।
[b]ঢাকা, ২৬ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
আমি ঘুমিয়েছি খাটে আর নূর সোফায়: নীলা
নারায়নগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ৭ হত্যার মূল আসামী নূর হোসেনের আলোচিত বান্ধবী জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি নূরের চোখে সুন্দরী ; আর এটাই আমার অপরাধ। এ জন্য আমার জীবন এখন অভিশপ্ত
সোমবার থেকে অটোরিকশা নিবন্ধন, লাইসেন্সের আওতায় আসবেন চালক
সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে যানবাহন নিবন্ধন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা, গেজেট প্রকাশ
সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এতে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি, গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চলাচলের রুট, পার্কিং এবং ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলসহ বিভিন্ন কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
গুলিস্তানে ফুটপাতের শতাধিক দোকান উচ্ছেদ
রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
মেয়র থেকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা, জব্দ হবে মালামাল
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসালে সরাসরি মামলা ও মালামাল জব্দ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, অনুরোধের সময় শেষ। এখন থেকে অবৈধভাবে দোকান বসালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















