পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বাতাস ও বৃষ্টির ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সুরা রুমের ৪৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহই বাতাস পাঠান, তা মেঘমালা সৃষ্টি করে। এরপর তিনি ইচ্ছামতো মেঘ ছড়িয়ে দেন কিংবা স্তূপ করে রাখেন এবং সেখান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। সুরা শুরার ২৮ নম্বর আয়াতে বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে বাতাসকে গালমন্দ করতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, বাতাস আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। কখনো তা রহমত নিয়ে আসে, আবার কখনো শাস্তির কারণ হয়। তাই বাতাসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে এবং এর কল্যাণ কামনা করতে বলা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ)
আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় নবীজি (সা.)-এর আচরণ
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আকাশে মেঘ জমতে দেখলে মহানবী (সা.)-এর চেহারায় উদ্বেগের ছাপ দেখা যেত। তিনি ঘরের ভেতরে যেতেন, আবার বাইরে আসতেন। বৃষ্টি শুরু হলে স্বস্তি অনুভব করতেন।
এর কারণ হিসেবে তিনি আদ জাতির ঘটনার কথা উল্লেখ করতেন। সুরা আহকাফের ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আদ জাতির লোকেরা আকাশে মেঘ দেখে বলেছিল, ‘এটি আমাদের বৃষ্টি দেবে।’ কিন্তু তাদের প্রত্যাশিত সেই মেঘ ছিল ধ্বংসাত্মক ঝড়ের পূর্বাভাস। (সহিহ মুসলিম)
বাতাস, মেঘ ও বৃষ্টির সময় পড়ার জন্য মহানবী (সা.) কয়েকটি দোয়া শিখিয়েছেন।
১. বাতাসের কল্যাণ কামনার দোয়া
প্রবল বাতাস প্রবাহিত হলে এই দোয়া পড়া যায়—
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে থাকা কল্যাণ এবং যে কল্যাণের জন্য একে পাঠানো হয়েছে, তা কামনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে থাকা অনিষ্ট এবং যে অনিষ্টের জন্য একে পাঠানো হয়েছে, তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম)
২. আকাশে মেঘ জমলে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া
আকাশে মেঘ জমলে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন—
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا أُرْسِلَ بِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাঊজু বিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি।
অর্থ: হে আল্লাহ, যে জিনিস দিয়ে মেঘ পাঠানো হয়েছে, তার অনিষ্ট থেকে আমরা আপনার আশ্রয় চাই। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
৩. বৃষ্টির জন্য দোয়া
খরার সময় এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া চাইলে তিনি দুই হাত তুলে তিনবার এই দোয়া করেন—
আরবি:
اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। (সহিহ বুখারি)
৪. উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া
বৃষ্টি শুরু হলে মহানবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন—
আরবি:
اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআন।
অর্থ: হে আল্লাহ, এই বৃষ্টিকে উপকারী করুন। (সহিহ বুখারি)
৫. অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পড়ার দোয়া
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হলে বা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে এই দোয়া করতেন—
আরবি:
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। (সহিহ বুখারি)
বৃষ্টি, বাতাস কিংবা বৈরী আবহাওয়ার সময় এসব দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও নিরাপত্তা চাওয়া যায়। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
এস
















