এটা সর্বজনস্বীকৃত যে শিক্ষক একটি সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সেবক তথা কারিগর এক্ষেএে প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষক যা কিনা জাতি গঠনের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীন স্বনির্ভর বাংলাদেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ কর্মচারী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। উন্নয়নশীল দেশ হতে উন্নত দেশে যেতে বিভিন্ন মিশন সম্পাদন করতে হচ্ছে।
উন্নয়নের অংশ হিসেবে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অবদান সমাজ বিনির্মাণে তথা মানসম্মত শিক্ষাদানে অপরিসীম। একজন শিক্ষক দেশের মানবসম্পদ গড়তে তাঁর ছাএছাএীদের ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশঅফিসার,বিচারক এমনকি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী হবার স্বপ্ন গড়ার প্রত্যয় তৈরি করে দেয়। আর সে রাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষকের সামাজিক স্বীকৃতি কতটুকু?সামাজিকভাবে মূল্যায়ন এর সাথে নিরাপত্তার অভাবেও ভোগে তাঁরা।কয়েক বছর যাবৎ শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নিয়ে বিভিন্ন খবর আসছে নদীর স্রোতের মতো।এটা সুস্পষ্ট যে,শুধু বেতন গ্রেড বাড়িয়ে তাঁরা যথোপযুক্ত মূল্যায়ন পাবে না বর্তমান সমাজেব্যবস্থায়।এটা বলার অপেক্ষা রাখে না অবশ্যই জীবন নির্বাহের জন্য আর্থিক বিষয়টি খুবই দরকারি। প্রতিদিনের জীবনচক্রে কিছু সুযোগ প্রাথমিক শিক্ষকদের বাড়িয়ে দিলে সমাজের প্রথম কাতারে তথা প্রতিটি ধাপে আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারতো এবং নিরাপত্তাটিও সুনিশ্চিত হতো। সমাজের অন্য পেশাজীবীরাও অবজ্ঞা তথা অবমূল্যায়ন করতে পারতো না।
উল্লেখ্য কার্যক্রমে রাখা যেতে পারে- প্রতিটি শিক্ষকের বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্রের ব্যবহার।এ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষক তার নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে ফ্রি তে চিকিৎসা এবং ঔষধ সুবিধার ব্যবস্থা পাবে।।পরিবহনের ক্ষেএে শুধু ট্রেনে ফ্রি ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবে।
একইভাবে,প্রাথমিকের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ক্ষেএেও আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন কেননা শিক্ষক বাদে বাকী সকল কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয় নিজ উপজেলার বাইরে।মানসন্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়াসে SDG বাস্তবায়নে এসকল সুযোগ সুবিধা অতীব জরুরী। রাষ্ট্রের policy maker গণ উন্নয়নের এসব ক্ষেএগুলোতে ক্ষুদ্র প্রয়াস চালালে উপেক্ষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কিছুটা হলেও জাতি গঠনের কর্ণধার হিসেবে সমাদর পাবে সেই সাথে সেবার মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।বলা যায় "A teacher is the Architect of new generation,responsible to build personality of modern Citizens."
লেখক, শিক্ষক ও গবেষক: মো: মেজবাউল হক
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)
এবিসিদ্দিক





