ভারতের কলকাতার বিখ্যাত বাংলা সিনেমা ‘ফাটাকেষ্ট’। সিনেমার নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর নাম ফাটাকেষ্ট। তার নামানুসারেই এই সিনেমার নাম ফাটাকেষ্ট। সিনেমার শুরুতে মাস্তান, পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সবশেষ অর্থমন্ত্রী হিসেবে ফাটাকেষ্ট সিনেমায় ভূমিকা রাখেন। আর মন্ত্রী হিসেবে ফাটাকেষ্টর ভূমিকাই মূখ্য। কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ এক জায়গায় ঝটিকা সফর এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন গ্রহণ করে রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় ফাটাকেষ্ট। ভারত ও বাংলাদেশের বাংলা ভাষী মানুষের কাছে এই ফাটাকেষ্ট চরিত্রটি খুবই জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত।
বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী যিনি একই ধরনের কাজ করে ফাটাকেষ্ট উপাধি পেয়েছেন। মাস্তান ফাটাকেষ্ট যেভাবে মন্ত্রীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেই মন্ত্রীত্বের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন, হুবহু সেরকম না হলেও খানিকটা সিনেমার ফাটাকেষ্টর মতোই মন্ত্রীসহ সমাজের নানা অনিয়মের কড়া সমালোচনা করেন বাংলাদেশের এই ফাটাকেষ্ট। আর এভাবেই ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন ফোরামে সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের কাজের সমালোচনা করতে করতে এক পর্যায়ে সিনেমার তিনি নিজেই মন্ত্রীত্বের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন অনেকটা ফাটাকেষ্ট স্টাইলে এবং সরকারও কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচল অন্তত দুটি মুখ বন্ধ করতে পেরে। আরেকটি মুখের কথা না হয় আরেকদিন বলা যাবে। তবে, সচেতন পাঠক নিশ্চয়ই এতক্ষণে সেই ঘুষ কেলেংকারীর কৃষ্ণকায় মহানায়ককে চিনতে পেরেছেন।
যাই হোক, সিনেমার মতোই বাংলার ফাটাকেষ্ট বেশ ভালোই ফাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ হঠাৎ ঝটিকা সফর, কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি এবং ডাইরেক্ট অ্যাকশান স্টাইলে কার্যক্রম চালিয়ে। এরইমধ্যে যথেষ্ট সুনামও অর্জন করেন তিনি। অনেকেই বলতে শুরু করেন, এই অন্যায়, অবিচারের যুগে এমন সৎ ও সাহসী মন্ত্রী সত্যিই বিরল।
বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ জটিল বলে মনে হচ্ছিল। যেখানে গোলাম মওলা রনির মতো চুনোপুটি একটু উচিত কথা বলতে গিয়ে কী নাকানী চুবানীই না খেলেন, ছিটকে পড়লেন দল থেকে, সেখানে একজন মন্ত্রী কীভাবে টিকে আছেন এমনভাবে উচিত কথা অকপটে বলার পরও? তবে, দুষ্ট লোকেরা বলে কয়লা ধুলে কখনো ময়লা যায় না। মুখে যতই ভালো কথা বলুক না কেন এরা সবাই এক। আসল জায়গায় গিয়ে এরা সব নীতি নৈতিকতার কথা ভুলে যায়। সময়মতো সংকীর্ণ দলবাজী আর স্বার্থপরতাই এদের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। দেশ বা জাতির স্বার্থ এদের কাছে তখন গৌন হয়ে যায়। আর গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এদের কাছে-জোর যার মুল্লুক তার।
এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। গত ৩১ মার্চ দেশের ৭৩ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো ৫ম দফার নির্বাচন। ৪র্থ উপজেলা পরিষদের এটাই শেষ দফা নির্বাচন। নির্বাচনে স্মরনকালের ভয়াবহতম জালিয়াতি ও কারচুপির ঘটণা ঘটেছে। দেশ-বিদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষই এ বিষয়ে অবগত। তবুও সবার জ্ঞাত্যার্থে দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের খানিকটা তুলে ধরা হলো।
পয়লা এপ্রিল (২০১৪) দৈনিক প্রথমআলোতে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল, “রাতেই কেন্দ্র দখল করে ভোট”! এই প্রতিবেদনে বলা হয়: “কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা ছাড়া বাকি সব প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার দুই উপজেলায় আধাবেলা হরতাল ডেকেছে স্থানীয় বিএনপি। সরেজমিনে দুটি উপজেলার ৩০টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কেন্দ্র ভোটারশূন্য। এ সময় সর্বোচ্চ তিনজন ভোটার দেখা গেছে সদরের রাহেলা খাতুন গার্লস স্কুল একাডেমি কেন্দ্রে। আলমডাঙ্গার ১০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৫টি এবং সদরের ৮৫টি কেন্দ্রের সবগুলোই সরকারদলীয় লোকজনের দখলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে”।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতী এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ৩১মার্চের নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়ে খোলাখুলি বক্তব্য দিয়েছে। প্রথমআলোতে ব্রতীর প্রেসবিজ্ঞপ্তির খানিকটা হলো: “নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতী বলেছে, কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারা, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার পঞ্চম পর্যায়ের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাপক হারে নিয়োজিত থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন কার্যত নিষ্ক্রিয়। ব্রতী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, দলীয় সমর্থকদের পেশিশক্তির প্রভাবকে নির্বাচন কমিশন মোকাবিলা করতে পারেনি”।
৩১ মার্চ নির্বাচনের দিনে প্রথমআলোর অনলাইন সংস্করনে “এমন নির্বাচন গণতন্ত্রকে কলুষিত করেছে”- এই শীরোনামে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “খুন, জালভোট, কেন্দ্র দখল, জোর-জবরদস্তি করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতনসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ হলো উপজেলা নির্বাচন। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, এমন নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে আস্থার সংকট”।
“ভোট বর্জন করে কেন্দ্র দখলের জবাব”-এমন শীরোনামে ৩১ মার্চ প্রথমআলোর অনলাইন সংস্করনের আরেক প্রতিবেদনের খানিকটা হলো: “এই দফায় ৩৪টি জেলার ৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে অন্তত ১০টি জেলায় নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ভোট গ্রহণে অনিয়ম ও কারচুপির প্রতিবাদে জামালপুর, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, চুয়াডাঙ্গা, বরগুনা, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ ৫৮ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বরগুনা, রাঙামাটি ও লক্ষ্মীপুরে ১০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে”।
১লা এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরে “সহিংসতা ও জবরদখলে ভোট শেষ”- শীরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের খানিকটা হলো: “ব্যাপক সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, গোলাযোগ, ভোটের আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি ও অনিয়মের মধ্যে পঞ্চম দফায় ৭৩ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও আড়াই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরে এক যুবলীগ নেতা ও মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক ব্যক্তি রয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২১ জনকে। বেশির ভাগ উপজেলায় জয় পেতে ক্ষমতাসীনরা কেন্দ্র দখল করে সিল মারার উৎসবে মেতে ওঠেন। কোনো কোনো উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে কেন্দ্রের দখল নেন তারা। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রসহ ৭০ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছেন। অনিয়মের প্রতিবাদে ৭ উপজেলা ও এক জেলায় হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা”।
“কেন্দ্র দখল ও ভোট বর্জন থামছে না”-এমন শীরোনামে ১লা এপ্রিল (২০১৪) দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের খানিকট হলো: “উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল থামছে না। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং কোথাও কোথাও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্র দখল, জালভোট, এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জন করছেন প্রার্থীরা। এদের অধিকাংশই বিরোধী দলীয় সমর্থক এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে কমপক্ষে চার শতাধিক ভোট কেন্দ্র দখলের সংবাদ পাওয়া গেছে”।
“শান্তিপূর্ণ ভোট ডাকাতি”-এমন শীরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠে ১লা এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “নির্বিঘ্নে ব্যাপক হারে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট, ভোটের আগে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে রাখা, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের বাধা, মারধর ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচন। এ ধাপে গতকাল সোমবার ৩৪ জেলার ৭৩টি উপজেলার ভোটগ্রহণ হয়। সহিংসতায় একজন নিহত এবং আহত হয়েছে শতাধিক”।
এভাবে দল-মত-নির্বিশেষে দেশের শত শত গণমাধ্যমে ৩১ মার্চে ৫ম দফায় অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। বহির্বিশ্বেও এই নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সুমান ক্ষুন্ন হয়েছে। এমনকী তৃতীয় দফায় উপজেলা নির্বাচনে চরম আকারে জালিয়াতি ও ভোট কারচুপি শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ফোরাম থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি বার বার আহবান জানানো হয়।
গত ২৪ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসন ও সরকারে হস্তক্ষেপসহ অনিয়মের অভিযোগগুলোর 'পূর্ণ ও স্বচ্ছ' তদন্ত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায় ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন। ঢাকার গুলশানে যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়ার যৌথ ভিসা সেন্টার উদ্বোধনের সময় তিনি এ আহ্বান জানিয়েছিলেন। (সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম) কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং চতুর্থ ও ৫ম দফায় নির্বাচনে অনিয়মের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।
এমনকী ৫ম দফায় উপজেলা নির্বাচন শেষে এক পর্যায়ে খোদ নির্বাচন কমিশনও অনিয়মের বিষয়টি আর অস্বীকার করতে পারেনি। “উপজেলা নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু বলা যাবে না: শাহ নেওয়াজ”-এমন শীরোনামে ১লা এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের খানিকটা হলো: “উপজেলা নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে সুষ্ঠু বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেছেন, 'ধাপে-ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ায় অনিয়মগুলো বেশি চোখে পড়ছে। তা ছাড়া নানা কারণে আমরা বাধ্য ছিলাম ধাপে-ধাপে নির্বাচন করতে।' 'নির্বাচনে অনিয়ম অস্বীকারের সুযোগ নেই' বলে জানিয়ে তিনি বলেন, 'যাদের দিয়ে নির্বাচনী কাজ করিয়েছি, তারা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।' আজ মঙ্গলবার দুপুরে শেরে বাংলানগরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন”।
গত ২ এপ্রিল তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিনে রাজধানীর বারিধারায় বৃটিশ ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ্যালান ডানকান বাংলাদেশের উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে যে প্রানহানি ও অনিয়ম দেখেছি তা প্রকৃতপক্ষেই উদ্বেগজনক। এমনকী ৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়েছিল সে প্রসঙ্গে ডানকান বলেন, ওই নির্বাচন সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক এবং অগ্রহণযোগ্য। এমনকি ঐ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে বিরোধীদল তৈরী হয়েছে তাও অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, যারা সরকারেও থাকে আবার বিরোধীদলেও থাকে তারা কখনোই স্বাভাবিক বিরোধীদল নয়। (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর)
এভাবেই দেশ-বিদেশের সর্বত্রই যখন উপজেলা নির্বাচনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও ব্যাপক কারচুপি নিয়ে কড়া সমালোচনা হচ্ছে, তখন শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই নির্বাচনকে সুষ্ঠু দাবি করছে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই ধারণা করেছিলেন অন্তত ফাটাকেষ্ট উপাধিতে ভূষিত মন্ত্রী মহোদয় সঠিক কথাটি বলবেন। কারণ সত্য কথা অকপটে বলার মধ্যদিয়েই যার উত্থান এবং খ্যাতি, তিনিও যে শেষ পর্যন্ত রশুনের সব গোড়া যেমন এক জায়গায় মিলিত হয়, তেমনই ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন তা কারো ধারনায় ছিল না।
৩১ মার্চ পঞ্চম দফার উপজেলা নির্বাচনের পরদিন ১লা এপ্রিল ফাটাকেষ্ট দাবি করে বসেন, অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবি করে বসেন। দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করনে প্রকাশিত ঐদিনের খবরের খানিকটা ছিল এমন: “যোগাযোগ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অতীতের যে কোনো স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দলের সভানেত্রীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচন বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে সাত হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে; যার সবগুলোই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে”।
তবে, ওই সংবাদ সম্মেলনের একটি বিষয় কোন মিডিয়ায় এসেছে বলে আমার জানা নেই। সেটি হলো কোন এক টেলিভিশন সাংবাদিক ফাটাকেষ্টর সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন, নির্বাচনে যে অনিয়ম, কারচুপি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে সেটাকে আপনি কিভাবে দেখেন? প্রশ্নের উত্তরে ফাটাকেষ্ট আবারও তার স্বভাবসুলভ চিবিয়ে চিবিয়ে ভঙ্গিতে বললেন প্রথম দফার নির্বাচনও যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে পঞ্চম দফা পর্যন্ত সেভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বেরসিক সাংবাদিক তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন, আর কত অনিয়ম, সহিংসতা ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে আপনাদের কাছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে হবে? এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না ফাটাকেষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে সযত্মে লালিত কৃত্রিম ভদ্রতার খোলস থেকে বেরিয়ে নিজেকে একেবারে আসল রুপে পেশ করলেন সবার সামনে। রাগে অগ্নিশর্মা ফাটাকেষ্ট ওই প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি দাঁড়াও, কোথায় কাজ কর? …ইত্যাদি ইত্যাদি।
[b]লেখক: সাংবাদিক
ই-মেইল: [email protected][/b]
মতামত
ক্ষেপে গেলেন ফাটাকেষ্ট
এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না ফাটাকেষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে সযত্মে লালিত কৃত্রিম ভদ্রতার খোলস থেকে বেরিয়ে নিজেকে একেবারে আসল রুপে পেশ করলেন সবার সামনে। রাগে অগ্নিশর্মা ফাটাকেষ্ট ওই প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বললেন





