১৪ ফেব্রুয়ারি তরুণ প্রজন্ম মেতে উঠবে ভ্যালেন্টাইন'স ডে উৎসবে। এই দিবসের আসল ইতিহাস অনেকেরই অজানা। প্রকৃত পক্ষ্যে এটা হলো রোমান ইতিহাস। এটার সাথে আমাদের বাংলা সংস্কৃতির কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ এই দিনটি আমাদের দেশে বিভিন্ন ভাবে পালিত হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ কার্যকলাপও পরিলক্ষিত হয় এই দিনে।
তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা এই দিবসটির আসল অর্থ না বুঝেই সব ধরনের নোংরা কার্যকলাপের মাধ্যমে নিজেদের ভ্যালেন্টাইনস ভাইরাসে আক্রান্ত করছে।
তরুণ প্রজন্মের বিবেকের কাছে প্রশ্ন, আপনারা যারা এ দিবস কে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করেন; তারা কি একটি বারও চিন্তা করছেন? ভ্যালেন্টাইন মানি কি ভালোবাসা? যদি তা না হয়, তবে ভ্যালেন্টাইন ডে মানি ভালোবাসা দিবস হয় কিভাবে? এ প্রশ্নের উত্তর কে দিবে? যারা এই দিনটি নিয়ে হৈ চৈ মাতামাতিতে মেতে উঠে তারা নিজেরাও জানেনা এর উত্তর।
ভ্যালেন্টাইন ডে এর নামে এই নির্লজ্জতার চর্চা বাংলাদেশে আবিস্কার করেছেন, বাংলাদেশের কোন এক জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক। পাশ্চাত্যের এই বস্তা পঁচা অনুষ্ঠান - যা পাশ্চাতেই হালে পানি পাচ্ছেনা। অার তিনি কিনা এটি স্বযত্নে কুড়িয়ে এনে, সম্পাদকীয় কারুকাজে সাজিয়ে আমাদের যুব সমাজের কাছে তুলে দিয়েছেন। আর কোমলমতি তরুণ তরুণীরা কিছু না জেনে না বুঝেই গন্ধরাজ মনে করে এই ধুতরার ফুলকে লুফে নিয়েছে। আমাদের যুব সমাজ আজ ভ্যালেন্টাইন ডে নামক বিষক্রিয়ায় উম্মাদ।
ভ্যালেন্টাইন ডে এর আবিস্কারঃ
ভ্যালেন্টাইন ডে এর আবিস্কার হয়েছে খ্রিস্ট সমাজে। এ সমাজে কোন ভালো মানুষেরই সন্তান হয় না। কারণ ভালো মানুষদেরতো বিয়ে করাই নিষেধ ছিলো। তাই খ্রিস্ট সমাজে যতো ভালো মানুষ আছে তারা সবাই খারাপ মানুষের সন্তান।
এমনি একজন খারাপ মানুষের সন্তান-ভালো মানুষ ছিলেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত নিজেকে ভালো রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি এক প্রেমময় নারীকে ভালোবেসে ফেললেন এবং গোপনে অবৈধ একটা সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন(যেহুতু বিয়ে করার নিষিদ্ধ ছিলো) নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থেকে জানা যায় পরবর্তীতে তিনি এই নারিকে গোপনে বিয়ে করে ফেলেন।
এই অপরাধে ভ্যালেন্টাইন কে কঠিন শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করে তৎকালীন গীর্জার নিষ্ঠুর অধিপতিরা। খ্রিস্ট সমাজের ধর্মযাজকেরা আজো ভ্যালেন্টাইন কে অপরাধী মনে করে ঘৃণা করে। আর পাশ্চাত্যের সাধারণ মানুষেরা ভ্যালেন্টাইন এর মৃত্যুতে কষ্ট পেয়েছিলো। মানবিক কারণে তারা দন্ডদাতাদের উপর ক্ষুব্দ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ দিরটিকে স্মরণে রেখেছে। তবে আমাদের দেশের মত এত হৈ চৈ করেনা।
পাশ্চাত্যে এটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করেনা- বলে ভ্যালেন্টাইন ডে। কারণ এই দিনে ভ্যালেন্টাইন কে হত্যা করা হয়েছিলো। অতএব এই দিনের নাম ভালোবাসা দিবস হওয়ার কোন যুক্তিই থাকতে পারেনা। ভ্যালেন্টাইন ডে প্রকৃতপক্ষে একটি প্রতিবাদ দিবস একটি কঠিন অন্যায়ের প্রতিবাদ। বিবাহ করাতো কোন অপরাধ হতে পারেনা, আর এ অপরাধে যদি কাউকে হত্যা করা হয় এর চাইতে বড় যুলুম আর কি হতে পারে?
এ দিনটিকে বলা যেতে পারে হয় প্রতিবাদ দিবস নয়তো বিশ্ব বিবাহ দিবস। এর মাধ্যমেই ভ্যালেন্টাইন কে স্মরণ করা যেতে পারে।
এই ভ্যালেন্টাইন কে পালনের আড়ালে পশ্চিমাদের মতো আমাদের দেশেও যুব সমাজের চরিত্র কতো অধঃপতন হচ্ছে, তা কি আমরা চিন্তা করে দেখি?
আসুন ভ্যালেন্টাইন ডে এর ভুল অনুবাদ বন্ধ করে এই দিন নোংরামি থেকে নিজে বাঁচি অপরকে বাঁচতে সাহায্য করি। নিজে সঠিক ইতিহাস জানি অপরকে জানাই।
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)
জারিফ





